কোনো প্রমাণ পায়নি কানাডার আদালত

 In জাতীয়

স্টাফ রিপোর্টার
পদ্মা সেতু নির্মাণে ঘুষের ষড়যন্ত্রের অভিযোগের কোনো সত্যতা না পাওয়ায় কানাডার একটি আদালত এসএনসি লাভালিনের শীর্ষ ৩ নির্বাহীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। বাংলাদেশের বহুমুখী পদ্মা সেতু নির্মাণে ঘুষের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২০১২ সালে কানাডার আদালতে এই মামলা করা হয়। যে দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা ঋণ বাতিল করেছিল বিশ্বব্যাংক, সেই দুর্নীতির মামলাকে ‘অনুমানভিত্তিক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে কানাডার আদালতের রায়ে। কানাডার গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার কানাডার অন্টারিওর একটি আদালত তাদের খালাস দিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তি করেছেন।

কানাডার টরোন্টো স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার বিচারক নরডেইমার চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই রায় দিলেও শুক্রবার পর্যন্ত তা প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৩ সাল থেকে বিশ্বব্যাংকের সব উন্নয়ন প্রকল্পে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত কানাডীয় প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনকেও মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ঐ রায়ে এসএনসি-লাভালিনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ ও বাংলাদেশ-কানাডার দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ব্যবসায়ী জুলফিকার ভূইয়া এই ৩ জন মামলা থেকে অব্যাহতি পান।

উল্লেখ্য, ঐ দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে টানাপোড়েনে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল হয়ে যায়। পরে নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে হাত দেয় বাংলাদেশ। ঐ দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পদত্যাগ করেন তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর বিরুদ্ধেও ঐ দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। বিশ্ব ব্যাংকের অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক ২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। ২০১৪ সালের অক্টোবরে দুদকের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়। ফলে তৎকালীন সেতু সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াসহ ৭ আসামির সবাইকে অব্যাহতি দেন আদালত। সেসময় এসএনসি-লাভালিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলা হয়, পদ্মা সেতু প্রকল্পে পাঁচ কোটি ডলারের কাজ পেতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা ২০১০ ও ২০১১ সালে বাংলাদেশের সেতু কর্মকর্তাদের ঘুষ দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। প্রমাণ হিসেবে ফোনে আড়ি পাতা তথ্য (অয়্যার ট্যাপস) ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে ২০১১ সালে ৩টি আবেদন করে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি)। অন্য এক আদালত তখন ঐ অনুমতি দিয়েছিল। তবে কানাডার সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ইয়ান নরডেইমার ঐ অনুমতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। কানাডার গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথম এবং তৃতীয় আড়িপাতা তথ্য আদালত আগেই খারিজ করে দেন। দ্বিতীয় আড়িপাতা তথ্যের মধ্যে যেসব তথ্য আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল সেগুলোকে বিচারক ‘অনুমানভিত্তিক ও গুজব’ বলে উল্লেখ করেছেন। আদালতের রায়ে বিচারক ইয়ান নরডেইমার জানান, আদালতে ঐ গুজব বা অনুমানকে সমর্থন করার মতো কোনো তথ্য-প্রমাণ হাজির করা হয়নি। বরং যেসব তথ্য? প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাও ‘ধারণা নির্ভর’। নরডেইমার আরও বলেন, আমার মতে, যেসব আড়িপাতা তথ্য সুপ্রিম কোর্টে হাজির করা হয়েছে, তা হাস্যকর। আর এর ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। যদিও সত্য এখনো অজানা।

Recent Posts

Leave a Comment