‘শেখ হাসিনার সম্মানপ্রাপ্তিতে আমাদের শির আরও উঁচুতে’

 In প্রধান খবর

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সমস্ত প্রটোকল ভেঙে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করেছেন। এতে আমাদের শির আরও উঁচু হয়েছে।’

বোরবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে করা সব চুক্তি লাইন বাই লাইন পড়ে দেখার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পড়ে দেখুন কোথায় দেশ বিক্রি হয়েছে, দেশের স্বার্থহানি হয়েছে? আর যদি তথ্য-উপাত্ত দিয়ে এটা প্রমাণ করতে না পারেন তাহলে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’

এই সফরকে ঐতিহাসিক দাবি করে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে যে চুক্তি ও সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেগুলো কোনো গোপন বিষয় নয়। কী চুক্তি হয়েছে, এটা শুধু বাংলাদেশ ও ভারত নয়, সারাবিশ্বই দেখেছে।

তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে বিএনপির বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘একটু অপেক্ষা করুন, ধৈর্য ধরুন। তিস্তা চুক্তি সম্পাদনের বিষয়টি আরও কয়েক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। চুক্তি সম্পাদন এখন সময়ের ব্যাপার।’

তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর অমীমাংসিত চুক্তিগুলো দ্রুত সম্পাদন করার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি (মোদি) ভারতের জনগণের নেতা। আমি আশা করব- উভয় দেশের জনগণের কথা ভেবে তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর চুক্তিগুলো যত দ্রুত করা সম্ভব হবে, ততই মঙ্গল হবে। এতে আমাদের উভয়ের বন্ধুত্ব আরও নতুন মাত্রায় উন্নীত হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সমস্ত প্রটোকল ভেঙে শেখ হাসিনাকে সম্মান দিয়েছেন তা শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের।

বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতবিরোধী প্রপাগান্ডা নয়, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রজায় রেখে পাওনা আদায় করে নেব। বৈরিতা করে পাওনা আদায় করা যায় না।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের জনগণ ও জাতীয় স্বার্থে যে কোনো চুক্তি করে যাব। এতে কে কী মনে করল, আমাদের কিছু যায়-আসে না। আমরা বিদেশী কোনো শক্তিকে তোষণ করে ক্ষমতায় যেতে চাই না।’

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি দুইটি চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করছি। একদিকে পরিবহনে শৃংখলা অন্যদিকে আওয়ামী লীগে শৃংখলা। দলীয় শৃংখলা ফিরে আনতে আমি যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত আছি।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমার কোনো পিছুটান নেই। নেত্রী আমাকে বড় আশা করে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি তার মুখ রক্ষা করতে চাই। এজন্য সবার সহযোগিতা চাই।’

বিএনপি ১৭ এপ্রিল ও ৭ মার্চ পালন না করায় সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি ১৭ এপ্রিলের মধ্যেও কি ভারতের গন্ধ খুঁজে পান? এখানেও কি ইন্ডিয়া বিদ্বেষ? আসলে যারা ৭ মার্চ ও ১৭ এপ্রিল করে না, তাদের বিবেক তো বিক্রি হয়ে গেছে পাকিস্তানের কাছে।

মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সংগঠনের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথের পরিচালনায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ রাখেন।

Recent Posts

Leave a Comment