আলোচনার মাধ্যমেই ইসি গঠিত হোক : রাষ্ট্রপতির উদ্যোগকে স্বাগত
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংবিধানের ১১৮ ধারা মোতাবেক নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠনে নিবন্ধন করা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে বঙ্গভবন সূত্রে যে খবর দেওয়া হয়েছে, তাকে আমরা একটি সুসংবাদ হিসেবেই বিবেচনা করতে চাই। রাষ্ট্রপতির এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই এবং একই সঙ্গে এর সাফল্য কামনা করি।
আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের বিকল্প নেই। সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারপারসন সংবাদ সম্মেলন করে যে ১৩ দফা প্রস্তাব পেশ করেছেন, তাতে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে সার্চ কমিটি ও নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শুরুতে এই প্রস্তাবের বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য শোনা গেলেও কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার বলে জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা এটিকে আলোচনায় সম্মতির ইঙ্গিত বলে মনে করছেন।
যেকোনো রাজনৈতিক বা জাতীয় সমস্যার সমাধানে আলোচনাই উত্তম পথ। আলোচনার মাধ্যমে একে অপরের অবস্থান যেমন জানা যায়, তেমনি যুক্তিতর্কের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানসূত্র বের করাও সহজ হয়। সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত হলেও তিনি ঐক্যের প্রতীক। রাষ্ট্রপতি দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত হন বটে, কিন্তু নির্বাচনের পর আর তিনি দলের থাকেন না। বর্তমান রাষ্ট্রপতি স্পিকার হিসেবে সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষের আস্থা অর্জন করেছিলেন। তাঁর এবারের উদ্যোগও সফল হবে আশা করি। রাষ্ট্রপতি নিবন্ধিত দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানাবেন বলে খবরে জানানো হয়েছে। এতে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কেরও অবসান হবে। দলটি এখন আর নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত নয়।
তবে নির্বাচন কমিশন গঠন প্রশ্নে রাষ্ট্রপতির প্রস্তাবিত আলোচনা বা সংলাপ সফল হবে কি না, তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোভাবের ওপর। দলগুলো যদি ‘সালিস মানি কিন্তু তালগাছ আমার’ ধারণা নিয়ে বসে থাকে, তাহলে সমস্যার সমাধান হবে না। একে অপরের যুক্তিপূর্ণ কথা শুনতে রাজি হলে ও একটি গ্রহণযোগ্য পথ খুঁজে বের করতে আন্তরিক থাকলে সমাধান মিলবেই। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য সিইসি পদে একজন এবং ইসি পদে চারজন যোগ্য, দক্ষ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন হওয়ার কথা নয়।
সূত্র : প্রথম আলো।