গত ২৭ নভেম্বর পানি সম্মেলনে যোগ দিতে হাঙ্গেরির পথে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি (বোয়িং-৭৭৭) পথিমধ্যে যান্ত্রিক গোলযোগের মধ্যে পড়ে। বাধ্য হয়ে বিমানটি তুর্কমেনিস্তানের আশখাবাত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়। মেরামত শেষে প্রায় ৪ ঘণ্টা পর হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের উদ্দেশে যাত্রা করে বিমানটি।
এর পেছনে নাশকতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ তিনটি তদন্ত কমিটি করে।
তদন্তে বেরিয়ে আসে বিমানটির ইঞ্জিন অয়েলের ট্যাংকের একটি নাট ঢিলে থাকায় জ্বালানি চাপ কম ছিল। ফলে বিমানটি স্বাভাবিক চলাচলের সক্ষমতা হারায়।
প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ঘটনার তিন দিনের মাথায় বিমানের পাঁচ প্রকৌশলীসহ ছয়জনকে সামিয়ক বরখাস্ত করা হয়। এরা হলেন- প্রকৌশল কর্মকর্তা এস এম রোকনুজ্জামান, সামিউল হক, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস, লুৎফুর রহমান, জাকির হোসাইন ও টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমান।
পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আরও তিন প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরা হলেন- বিমানের চিফ ইঞ্জিনিয়ার (প্রডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, চিফ ইঞ্জিনিয়ার (কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স) এস এ সিদ্দিক ও প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার (সিস্টেম অ্যান্ড মেইনটেইনেন্স) বিল্লাল হোসেন।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় বরখাস্ত নয়জনকে আসামি করে মামলা করেন বাংলাদেশ বিমানের পরিচালক এমএম আসাদুজ্জামান।
মামলার এজাহারে বিভাগীয় তদন্তে ওই নয়জনের কর্তব্যে অবহেলা ও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এরই প্রেক্ষাপটে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়।
ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির মাহমুদ চৌধুরী এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১২ জানুয়ারি দিন ঠিক করে দিয়েছেন পুলিশকে।
