প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন

 In খোলা কলাম
মোহাম্মদ আবু নোমান    |


নিরাপদ মাতৃত্ব প্রত্যেক মায়ের অধিকার। সুস্থ-সবল শিশু দেশের অমূল্য সম্পদ। মায়ের গর্ভকালীন সুস্থতাই পারে সুস্থ শিশুর জন্ম দিতে। এর জন্য নিরাপদ মাতৃত্ব অপরিহার্য। একজন মা শত যন্ত্রণা সহ্য করে, নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে ১০ মাস ১০ দিন শিশুকে নিজের মধ্যে ধারণ করে পৃথিবীর মুখ দেখান। কিন্তু শিশু জন্মদানের ক্ষেত্রে আমরা মায়েদের কতটা নিরাপদ রাখতে পারছি সেটা ভাবার বিষয়। মা যে মমতা নিয়ে সন্তানের জন্য এই সুন্দর পৃথিবীকে সাজান, আমরা কি পেরেছি তাকে সে অনুযায়ী সেবা দিতে, বা তার মাতৃত্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে?
শিশু জন্মদানে মায়েদের অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু থেকে রক্ষা করতেই প্রতিবছর ২৮ মে পালিত হয় ‘বিশ্ব নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস’। মাতৃস্বাস্থ্য, নিরাপদ প্রসব, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি সম্পর্কে মা, পরিবার ও সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিশুর জন্মদান ও মাতৃত্ব সম্পর্কিত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং এর সুষ্ঠু সমাধানের পথ খোঁজাই নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য। দেখা যায়, বিভ্রান্তি ও অজ্ঞতার কারণে অনেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আগ্রহী হয় না। উপযুক্ত চিকিৎসা পায় না এমন পরিবারের সংখ্যা যেমন বেশি, তেমনি চিকিৎসা সেবা নিতে আগ্রহী নয় এমন পরিবারের সংখ্যাও কম নয়। রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো সমস্যার জন্য হাসপাতালে যেতে পারে না অনেক নারী। হাসপাতালে পৌঁছালেও ডাক্তার না থাকার কারণে মেলে না চিকিৎসা সেবা। আবার অনেকে পুরুষ ডাক্তারের হাতে প্রসব করাতেও রাজি হয় না। গ্রামীণ, পাহাড়ি জনপদ ও চরাঞ্চলের অবস্থা আরও খারাপ। এসব জায়গায় নেই কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ । আর থাকলেও সেখানে ডাক্তাররা থাকতে চায় না। কেউ অসুস্থ হলে স্থানীয় ওঝা, ফকির বা হাতুড়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়। ফলে বাড়ছে মা ও শিশুর মৃত্যু।
গবেষণায় এসেছে, দেশে গর্ভকালীন শতকরা ১৪ জন মহিলাই নানা ঝুঁকিপূর্ণ জটিলতায় ভোগেন। সন্তান গর্ভে থাকার সময় স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ক্যালরি, ভিটামিন ও পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের গবেষণায় দেখা যায়, দেশে নারীদের দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টির হার শতকরা ৩৭ দশমিক ৯। সচেতনতা ও পুষ্টির অভাবে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার শিকার হচ্ছেন। দক্ষ দাইয়ের হাতে প্রসবের হার বর্তমানে বেড়ে ৩২ শতাংশ হলেও ৬৮ শতাংশ মায়ের এখনও প্রসব করানো হয় অদক্ষ দাইয়ের দ্বারা। মাতৃমৃত্যু রোধ করতে হলে প্রয়োজন আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন।
নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মনিটরিং ব্যবস্থার দুর্বলতাকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতে সরকারের অঙ্গীকার ও টাকার অভাব নেই, অভাব আছে প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও দুর্বল মনিটরিং ব্যবস্থার। সরকারের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার হ্রাসসহ মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করতে হবে।
মোহাম্মদ আবু নোমান : প্রাবন্ধিক
abunoman72@ymail.com
Recent Posts

Leave a Comment