এরপর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শিহাবকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। যদিও ঘটনার পর থেকেই মামলার ছায়া তদন্ত করে আসছিল ডিবি পুলিশ। এরপর শনিবার মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। রোববার তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত উপ-পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আসামি শিহাবকে ডিবি কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার কথাবার্তার মধ্যে অসংলগ্নতা পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে রোববার তাকে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তথ্য গোপনের জন্য সে কৌশল হিসেবে এমন ভান ধরেছে। এ কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরে আনসার সদস্য খুনের ঘটনায় গ্রেফতার শিহাব এখনো তার প্রকৃত ঠিকানা জানায়নি। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজেকে মানসিক রোগী সাজানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি আরেকবার সুযোগ দিলে সে ভালো হয়ে যাবে বলেও আবদার করছে। এতে বিভ্রান্তিতে পড়ছেন তদন্ত তদারক কর্মকর্তারা। দফায় দফায় জেরার পরও তার গ্রামের বাড়ির ঠিকানা ও মা-বাবার নাম বলেনি। এমন পরিস্থিতিতে শিহাব মাদকাসক্ত কি না সেটি নিশ্চিত হতে তার রক্তসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। কর্মকর্তাদের ধারণা সে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে তথ্য গোপন করছে।
বিমানবন্দর থানার ওসি নূরে আযম মিয়া জানান, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে মামলা হস্তান্তরের আগে শিহাবকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এসময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই যুবক একেক সময় একেক রকম তথ্য দিয়েছে। তাকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করলে পাল্টা প্রশ্ন করে তদন্তকর্মকর্তাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে খুব একটা জোর দেওয়া সম্ভব হয়নি। চিকিৎসা শেষে তাকে রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হয়ত বিস্তারিত তথ্য পাবেন ডিবি পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ইজাজ শফি বলেন, নিরাপত্তাকর্মীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পোশাকে ছুরি নিয়ে কেউ বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে হামলা চালালে তাকে পাগল বলা যায় না। ধারণা করা হচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মামলার তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারবেন ডিবির কর্মকর্তারা।
গত রোববার (৬ নভেম্বর) রাতে শিহাবের ছুরিকাঘাতে নিহত হন আনসার সদস্য সোহাগ আলী। এ সময় তার ছুরিকাঘাতে বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক এপিবিএন সদস্য এবং আরও চার আনসার সদস্য আহত হন। পরে যাত্রীদের সহায়তায় ধরা পড়ার পর গণপিটুনিতে জখম হয় ওই যুবক।
পুলিশ প্রহরায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে শনিবার বিকেল ৩টার দিকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।