আপনার বিবাহ বিচ্ছেদের খবর শোনা যাচ্ছে সর্বত্র।
কী বলব ভাইয়া? আমি বাকরুদ্ধ। এতদিন ধরে চেষ্টা করেছিলাম সংসারটা যেন না ভাঙে। শেষ পর্যন্ত গান-বাজনাও ছেড়েছিলাম— শুধু তার সংসার করব বলে। কিন্তু আমি আসলে জানতাম না যে, সে এমপি হয়ে যাওয়ার পর আমার জীবনটা এরকম হয়ে যাবে। সে এভাবে পরিবর্তন হয়ে যাবে— আমাকে ভালোবাসে না, গানকে ভালোবাসে না, আমার পরিবারকে সম্মান করে না। না আমার পড়াশোনা…।
আমার প্রতি, আমাদের প্রতি যে একটা দায়িত্ববোধ থাকার দরকার, সেটা ছিল না— সে তো আমার চেয়ে বয়সে অনেক বড়। তারচেয়ে বড় কথা ড্রিংকস করা, মেয়ে নিয়ে ফুর্তি করা— আসলে সহ্য করার মতো নয়। আমি প্রতিবাদ করেছিলাম বলে আমার গায়েও হাত তুলেছিল, অনেক অত্যাচার করেছে।

আমি বাধ্য হয়েছি সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে। (কান্নায় ধরে আসা গলা) আমি আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলাম—আমার ছোটভাই, আমার বাবা-মা আমাকে দরজা ভেঙে বাঁচিয়েছে। তারা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল— ‘তুমি কেন আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলে?’ আমি বলেছিলাম, সবার মত আমারো যদি কলঙ্ক রটে তাহলে বেঁচে থেকে লাভ কী?
গান ছেড়ে দিয়েছিলেন! বলেননি তো।
আমি আসলে বিয়ের পরপরই গান ছেড়ে দিয়েছিলাম। ‘তুমি আসবা নাকি’, ‘পরানের বন্ধু’সহ সর্বশেষ যে কাজগুলো করছি সবই সেপারেশনের পর করেছি। এর বাইরে আমার কিছু করার ছিল না।
প্রায় পাঁচ-ছয় মাস ধরে আমরা আলাদা ছিলাম। আমি অনেক চেষ্টা করেছি। শেষ পর্যন্ত এও বলেছি, তুমি যদি সবকিছু ছেড়ে দাও তাহলে আমি তোমার সঙ্গে থাকব। সে কোনো কিছুই ছাড়বে না— না ড্রিংকস করা, না মেয়ে নিয়ে ফুর্তি করা। আমার উপর অত্যাচার করবে— এগুলো আমার পক্ষে মানা সম্ভব না। সে আমাকে এটাও বলেছে, আমাকে তিন সতীনের সংসার করাবে। অনেকবার হুমকি দিয়েছে। আমি মরলে মরে যাব, কিন্তু মেয়ে হিসেবে লড়াইটা চালিয়ে যাব।
ডিভোর্স লেটারটা কবে ইস্যু করা হয়েছে?
১৯ তারিখ রাতে।

আপনার পক্ষে আইনজীবী কে ছিলেন?
কোনো আইনজীবী না। কাজী ডেকে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে আমাদের। আর আমি চাইনি বিষয়টি জানাজানি হোক।
এখন কোথায় থাকছেন?
আমি আমার পরিবারের সাথেই থাকছি। ঢাকাতেই মা-বাবার সঙ্গে।
আপনাদের একমাত্র সন্তান স্নেহা কোথায়?
আমার কাছেই আছে।