এরশাদ গত কয়েক দিন নিয়মিত তার বনানীর অফিস করেননি। সাম্প্রতিক সময়ে কোনো বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দেবারও সম্ভাবনা নেই। যদিও কয়েকদিন আগেই এরশাদ আগামী নির্বাচন এককভাবে করার ঘোষণা দিয়ে মাঠ পর্যায়ে একের পর এক সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
জাতীয় পার্টি সূত্র জানায়, এরশাদের এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া ও তার সাম্প্রতিক আরো কিছু বক্তব্যের পর দলের মধ্যে সরকার সমর্থক অংশ অস্বস্তিতে পড়ে। এ অংশটি দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঠিকমতো না মানলেও এরশাদ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। কারণ সরকারি একটি অংশের সমর্থনে এরশাদকে নানান চাপে রেখেছে এই অংশটি। এরমধ্যে এরশাদের দুটি মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালতে শুরু হয়েছে। মামলাগুলো হল- রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন পাওয়া উপহার সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতির মামলার সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি ও এরশাদের বিরুদ্ধে রাডার দুর্নীতির মামলার বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়ার জন্য দুদকের করা আবেদন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের বিরুদ্ধে রাডার দুর্নীতির মামলার বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়ার জন্য দুদকের করা আবেদনের শুনানি বুধবার শেষ হয়েছে। ২১ বছর আগের করা এই মামলাটি বিচারের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর পর ২০১৪ সালে তৎকালীন বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবদুর রশীদ শুনানিতে বিব্রত বোধ করেন। এরপর মামলাটি কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে আসে। তিনি সাক্ষ্য নেওয়ার আবেদন খারিজ করে দেন।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন পাওয়া উপহার সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে করা দুর্নীতির মামলার সাজার রায়ের বিরুদ্ধে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আপিলের শুনানি পিছিয়ে আগামী ৩০ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হাইকোর্টের আদেশে এই মামলায় বর্তমানে জামিনে আছেন।
এতো বছর পর এই মামলাগুলোর মুখোমুখি হয়ে এরশাদ মানসিকভাবে কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছেন বলে জানিয়েছে তার পারিবারিক একটি সূত্র।
যদিও এরশাদের এক সময়ের মুখপাত্র ও বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় কাছে দাবি করেছেন, এরশাদ ও তার দল এসব মামলা নিয়ে মোটেই চিন্তিত নয়। এ নিয়ে এরশাদ কোনো চাপ বোধ করছেন না বরং খালেদা জিয়ার আমলে করা এসব মামলা নিষ্পত্তি হোক, এটাই তারা চান। তবে ভিন্ন কথা বলেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার। তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘সাগরে নিম্নচাপ উঠেছে। সামনে বড় ঝড় হতে পারে।’
হাওলাদার বলেন, ‘জাতীয় পার্টি ২৫ বছর ধরে প্রতিকূল পরিবেশে রাজনীতি করছে। এখনো প্রতিকূল পরিবেশে রাজনীতি করেই টিকে থাকবে। এখন কি সে প্রতিকূলতা জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেন, বিরোধী দলকে তো প্রতিকূল পরিবেশেই থাকতে হয়।’
এরশাদের মামলা ঘিরে চাপ বা কোনো দুশ্চিন্তা আছে কিনা জানতে চাইলে সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে রুহুল আমীন বলেন, ‘দেখা যাক, সময়ই কথা বলবে, এখনতো অনেক কিছুই বলা যায় না।’