গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল হান্নান রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমিতে সাঁওতালদের রোপন করা আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু করে।
রচিকের এমডি আব্দুল আউয়াল জানান, পাকা ধান দ্রুত কাটার জন্য মেশিনের পাশাপাশি দেড় শতাধিক শ্রমিক ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ করছেন। প্রতিদিন ধান মাড়াইয়ের পর সন্ধ্যায় বস্তা ভরে সাঁওতালদের ঘরে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ফসল তুলে সাঁওতালদের দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তাই হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ধান কাটা হচ্ছে। তবে ৩০ নভেম্বরের আগেই ধান কাটা শেষ হবে।

এ প্রসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতালদের পক্ষে রিটকারী আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া পরিবর্তন ডটকমকে জানান, হাইকোর্ট ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ধান কাটার কোনো নির্দেশনা দেননি। চিনিকল কর্তৃপক্ষ এমন নির্দেশনার দোহাই দিতে পারেন না। ধান কাটা নির্ভর করে ধান পাকার ওপর। ধান কাটার সময় বেধে দেননি আদালত।
তিনি আরো জানান, ধান পাকলে সাঁওতালরা সেই ধান না কাটলে প্রশাসনকে নিজ উদ্যোগে ধান কেটে ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতালদের বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে আদালতের রায়ে।
উপজেলার মাদারপুর গ্রামের বাসিন্দা ভবেন মার্ডী জানান, খামারের ১৮৪২ একর জমির মধ্যে তারা ১৩৬ একর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করেন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক জমির ধান এখনো কাঁচা রয়েছে। রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ কাঁচা ধান কেটে তাদের বুঝে দিচ্ছেন। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ২৯ একর জমির ধান কাটা হয়েছে। এতে ধান উৎপন্ন হয়েছে ৫৮৬ মণ।

সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ইক্ষু খামার ভূমি উদ্ধার কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাস্কে চিনিকল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ধান বুঝে পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা ধান লাগিয়েছি, সেই ধান পেলাম। কিন্তু আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া ঘরবাড়ি ও লুটপাট করা গরু-ছাগল, হাস-মুরগীর ক্ষতিপূরণ পাইনি।’
এদিকে সাঁওতাল হত্যা, অগ্নিকাণ্ড ও লুটপাটের ঘটনায় জাতীয় আদিবাসি পরিষদের পক্ষ থেকে সোমবার মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। উত্তরাঞ্চলজুড়ে এ কর্মসূচি পালিত হবে। সকাল সাড়ে ১০টায় গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডের আসাদুজ্জামান মার্কেটের সামনে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), ব্রতী ও অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট নামের তিনটি সংগঠনের যৌথভাবে করা রিটের শুনানি শেষে ১৭ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জে চিনি কল কর্তৃপক্ষের অধিগ্রহণ করা জমিতে লাগানো ধান সাঁওতালদের কাটতে দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে সাঁওতালদের নিরাপত্তা ও অবাধে চলাফেরার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ সময় সাঁওতালদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় কয়টি মামলা হয়েছে এবং আসামি কারা সে ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন ১০ দিনের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত। এ ছাড়া পরবর্তী শুনানির জন্য ৩০ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়।
চলতি বছরের ১ জুলাই সাঁওতালরা সাহেবগঞ্জ বাণিজ্যিক খামারের জমি দখল করে বসবাস শুরু করেন। ৬ নভেম্বর তাদের উচ্ছেদ করা হয়। ওই দিন সাহেবগঞ্জ এলাকায় রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটা নিয়ে চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। এর মধ্যে তিনজন সাঁওতাল নিহত হন।