রিয়াল মাদ্রিদ-স্পোর্টিং: প্রতিপক্ষের মাঠে খেলার ২৯তম মিনিটে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। লুকা মডরিচের ফ্রি-কিক থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের ভেতরে রাফায়েল ভারানেকে পাস বাড়ান ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ফাঁকায় থাকা ভারানে গোল করতে ভুল করেননি। কিছুক্ষণ পর চোট নিয়ে গ্যারেথ বেল মাঠ ছাড়লে হোঁচট খায় রিয়াল।
বেল মাঠ ছাড়ার পর রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণের গতি কমে যায়। প্রথমার্ধে আর গোল করতে পারেনি দলটি। বিরতির পর খেলা ৬৪তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় স্পোর্টিং। প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে গুতো মেরে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন হুয়াও পেরেইরা।

ম্যাচের ৮০তম মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে গোল করে সমতায় ফেরে স্পোর্টিং। ডি-বক্সের ভেতরে ফ্যাবিও কোয়েন্ত্রাওয়ের হাতে বল লাগলে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট-কিক থেকে গোল করতে ভুল করেননি স্পোর্টিং তারকা আদ্রিয়েন সিলভা। তবে ৮৭তম মিনিটে করিম বেনজেমার গোলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।
‘এফ’ গ্রুপের অপর ম্যাচে ঘরের মাঠে লেগিয়া ওয়ারশকে ৮-৪ গোলে বিধ্বস্ত করে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। রিয়াল ও ডর্টমুন্ডের মধ্যকার গ্রুপ পর্বের শেষ লড়াইয়ে জয়ী দলটি চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে উন্নীত হবে। ড্র হলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে ডর্টমুন্ড।
সেভিয়া-জুভেন্টাস: ঘরের মাঠে পিছিয়ে পড়েও সেভিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে জুভেন্টাস। জুভেন্টাসের হয়ে গোল তিনটি করেন ক্লদিও মার্চিসিও, লিওনার্দো বুনোচ্চি ও মারিও মানজুকিচ। অন্যদিকে সেভিয়ার একমাত্র গোলটি আসে নিকোলাস মার্টিন পারেহার পা থেকে।
‘এইচ’ গ্রুপের দিনের অপর ম্যাচে ডায়নামো জাগরেবকে ১-০ গোলে হারিয়ে নকআউটের স্বপ্ন টিকিয়ে রেখেছে অলিম্পিক লিঁও। এক রাউন্ড বাকি থাকতে ১১ পয়েন্ট নিয়ে জুভেন্টাস শীর্ষে ও ১০ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে সেভিয়া। তিন নম্বরে থাকা লিঁওর পয়েন্ট ৭।

মোনাকো-টটেনহ্যাম: শেষ ষোলোর স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে মঙ্গলবার রাতে জয়ের বিকল্প ছিল না টটেনহ্যামের। তবে মোনাকোর কাছে ১-২ গোলে হেরে ছিটকে পড়ে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের গোল তিনটি ৪৮ থেকে ৫৩ মিনিটের মধ্যেই হয়। ৪৮তম মিনিটে ডিবরিল সিডিবের গোলে এগিয়ে যায় মোনাকো। চার মিনিট পর হ্যারি কেনের পেনাল্টি গোল থেকে সমতায় ফেরে টটেনহ্যাম। তবে ৫২তম মিনিটে থমাস লেমারের গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মোনাকো।
‘ই’ গ্রুপ থেকে মোনাকোর শেষ ষোলো নিশ্চিত হলেও বায়ার লেভারকুসেন ও সিএসকেএ মস্কোর মধ্যে লড়াই হবে দ্বিতীয় স্থানটির জন্য। মঙ্গলবার রাতে সিএসকেএ ও লেভারকুসেনের মধ্যকার ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়।

লেস্টার সিটি-ক্লাব ডি ব্রাগ: চার ম্যাচে তিন জয়ে লেস্টার সিটির শেষ ষোলো প্রায় নিশ্চিতই ছিল। যদি ও কিন্তুর হিসাব মেলাতে মঙ্গলবার রাতে মাত্র এক পয়েন্ট দরকার ছিল ক্লদিও রানিয়েরির দলের। তবে ব্রাগকে ২-১ গোলে হারিয়ে পঞ্চম ম্যাচে চতুর্থ জয় দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ধুঁকতে থাকা দলটি।
‘জি’ গ্রুপের দিনের অপর ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করেছে কোপেনহেগেন ও এফসি পোর্তো। ৮ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত দুই নম্বরে রয়েছে পোর্তো। ৬ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে কোপেনহেগেন। নিজেদের শেষ ম্যাচে কোপেনহেগেন যদি ক্লাব ডি ব্রাগকে হারাতে পারে তবে নকআউটের দারুণ সুযোগ থাকবে তাদের। সেক্ষেত্রে শেষ ম্যাচে লেস্টারের বিপক্ষে পোর্তো জয় না পেলে শেষ ষোলোতে উন্নীত হবে কোপেনহেগেন।