তবে অনেকের জন্যই এটা মেনে নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যারা পাকিস্তানপন্থী ও সরকার বিরোধী। যারা এখনও স্বাধীন বাংলাদেশ থেকে সুযোগের সদ্ব্যবহারের পথ খোঁজে। তারা কখনই আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেনি। যে দলটি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়া থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও এনেছে।
বিদেশিদের লক্ষ্য করে এই টার্গেট কিলিং দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই করা হয়। যাতে গার্মেন্টস অথবা অর্থনৈতিক খাত ভেঙ্গে পড়ে। খ্রিস্টানদের উপর আক্রমণ করলে যাতে পশ্চিমা আমদানীকারকেরা ক্ষুব্ধ হয়।
তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণ কেনো? কিছু স্বার্থান্বেষী মহল কেনো নিয়মিত তাদের টার্গেট করছে? যে কারণেই তা করা হোক তাদের নিষ্ক্রিয় করা কঠিন নয়।
প্রথমত এটা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ব্যর্থতা। দায়িত্বের ব্যপারে তাদের আরও আন্তরিক হতে হবে। বাংলাদেশে হিন্দুদের প্রচুর জায়গা ও সম্পত্তি রয়েছে। স্বার্থান্বেষী একটি মহল এসবের দখল নেয়ার সুযোগ খুঁজছে।
এমন হামলার ফলে আতঙ্কের সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে হিন্দু সম্প্রদায় সহায় সম্বল ফেলে অন্য দেশে পাড়ি দিলে সেসমস্ত সম্পত্তি হাতিয়ে নেবে দুষ্টচক্র।
তবে এই কুচক্রীরা সংখ্যায় খুবই কম আর আমাদের এদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। আমরা বাংলাদেশিরা প্রতিবেশিদের সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রেখে, তাদের সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করেই বসবাস করে আসছি। তাদের ধর্ম যাই হোক।
যারা সরকারের ক্ষতির উদ্দেশ্যে এমন পন্থা গ্রহণ করেছে তাদের আগে চিহ্নিত করতে হবে। আর স্বাভাবিকভাবেই তা জামাতে ইসলামীর দিকেই যায়। এরপরই সন্দেহটি পড়ে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির ওপর। বিএনপি বড় দল হলেও জামাতের সিদ্ধান্তের উপরই তারা চলে। যদি তা সত্য না হত, তবে অনেক আগেই বিএনপি জামাতের সঙ্গ ত্যাগ করতো।
সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কারণে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক অনেক মাত্রায় পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের ক্ষমতাগ্রহণের আগে বিএনপি মনে করেছিল আওয়ামী লীগের তুলনায় বিজেপির সঙ্গে জামাত আর তাদের সম্পর্ক বেশি ভালো হবে। সংসদে বিরোধী আসন হারানো এই দলটি চেয়েছিল সংঘাত আর সহিংসতার মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটাবে। তবে তাতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।
এখন হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি ঘটানোর একমাত্র অস্ত্রটিই তাদের বাকি ছিল। এমন ঘটনায় এরই মধ্যে দিল্লী তাদের উদ্বেগও জানিয়েছে। দিল্লীর বার্তাটি যারা পড়েছেন, তারা উপলব্ধি করতে পারবেন, বিষয়টাকে তারা কিভাবে নিয়েছেন। আমার তো মনে হয়, সংখ্যালঘুদের উপর এই আক্রমণ পরিকল্পিত। যারা এটা করেছে, তারা এক ঢিলে দুটি নয় অনেকগুলো পাখি মারতে চেয়েছে। এবং ঢাকা-দিল্লী সম্পর্কের অবনতি করা তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য।
এ কারণে যারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর এমন ঘৃণ্য হামলা চালাচ্ছে তাদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। এজন্যে স্থানীয় ডিসি এবং এসপি’দের পূর্ণ ক্ষমতা দিতে হবে যাতে তারা সেসব অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে পারে। ব্যর্থ হলে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
এছাড়া দোষি প্রমাণিত হলে অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ডের বিধানও করা যেতে পারে। ভারতও তাহলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রক্ষার্থে একই পথ অনুসরণ করবে।
এক ইশ্বরের সৃষ্ট আমরা মানুষের মতো বসবাস করতে চাই। পশুর মতো নয়!
নাদীম কাদির : সাংবাদিকতায় জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারসোল্ড স্কলার এবং লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার।
nadeemqaadir1960@gmail. com