প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে টিকেনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ

 In ব্যবসা বাণিজ্য

দুই দফা নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে ৮ জন প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের ২ ডেপুটি গভর্নরের শূন্য পদ সহসাই পূরণ হচ্ছে না। প্রথম দফায় সার্চ কমিটির চূড়ান্ত করা ৩ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয় দফায় কমিটি ৫ জনের নাম চূড়ান্ত করলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গ্রহণ করেনি।

জানা গেছে, ডেপুটি গভর্নর নিয়োগের জন্য ড. কাজী খলিকুজ্জামানের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি প্রথম দফায় ২১ জনকে পরীক্ষার জন্য ডাকে। এদের মধ্যে ১৯জন মৌখিক পরীক্ষা দেয়। এরমধ্যে ৩ জনের নাম চূড়ান্ত করে সার্চ কমিটি। পরে তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনে দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ পাওয়া যায়। এ অবস্থায় প্রথম দফার নিয়োগ প্যানেল বাতিল করা হয়।

এরপর দ্বিতীয় দফায় ২১ জুলাই ডেপুটি গভর্নর নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। মোট ৩১টি আবেদনের মধ্যে ১৭জনকে বাছাই করে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকে সার্চ কমিটি। এরমধ্যে ৫ জনকে চূড়ান্ত করা হয়। এরা হলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এসএম মনিরুজ্জামান, আবদুর রহিম, আহমেদ জামান, মোহাম্মদ নওশাদ আলী চৌধুরী ও শুভঙ্কর সাহা। এই ৫ জনের নাম অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে মন্ত্রণালয় থেকে আহমেদ জামানের নাম সুপারিশ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ গ্রহণ করেনি। ডেপুটি গভর্নর নিয়োগের সুপারিশকৃত ফাইল পুনরায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসে। সেই সঙ্গে প্রস্তাবিত ৫ জনের বিষয়ে আলাদা করে খোঁজখবর নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এমন নির্দেশনার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ প্রক্রিয়া আরো দীর্ঘ হল।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আবু আহমেদ  বলেন, একসময় শুধু ২জন ডেপুটি গভর্নর দিয়ে চলছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সরকারের সময় ২জন থেকে বেড়ে ৪ জন হয়েছে। এটা আসলে খুব জরুরি কিছু না। সরকার যদি মনে করে দরকার নেই তাহলে নিয়োগ না দিলেও সমস্যা নেই। কারণ এটা কোনো পাবলিক ইস্যু না। নিয়োগ না দিলে জনগণের কোনো সমস্যা নেই। কাজ-কর্মেও সমস্যা হচ্ছে না। দুই জনতো ইতোমধ্যে ৭/৮ মাস চালিয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা এ বিষয়ে বলেন, গভর্নর নিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেই। সরকারের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ দিবে। বাংলাদেশ ব্যাংক শুধুমাত্র মৌখিক পরীক্ষার আয়োজন করতে পারে। বাকি সব সিদ্ধান্ত সরকারের। সুতরাং কবে নাগাদ ডেপুটি গভর্নরের ২ শূন্যপদ পূরণ হবে তা মন্ত্রণালয়ই ভাল বলতে পারবে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনায় ১৫ মার্চ পদত্যাগ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান। একই ঘটনায় সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই ডেপুটি গভর্নর আবুল কাসেম ও নাজনীন সুলতানাকে অব্যাহতি দেয়। তখন থেকেই ডেপুটি গভর্নরের দুটি পদ খালি রয়েছে।

এরপর ১৬ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকে ডিজি নিয়োগের জন্য পল্লী-কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদকে প্রধান করে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন গভর্নর ফজলে কবির, অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদ।

Recent Posts

Leave a Comment