বিচ্ছেদের সুর অন্তরে বাজালেন বারী সিদ্দিকী

 In বিনোদন, শিল্প-সাহিত্য

 

কালো সাফারি স্যুট পরে যখন মঞ্চে এলেন গ্যালারি জুড়ে হর্ষধ্বনি। উপস্থিত দর্শকদের সালাম জানালেন তিনি। মাইক্রোফোনের সামনে বসলেন। আবারো হর্ষধ্বনি। তিনি বারী সিদ্দিকী। লোকগানে অসম্ভব জনপ্রিয় নাম। বাঁশের বাঁশিতে সুর তুললেন ‘পূবালী বাতাসে’। উকিল মুন্সীর বিখ্যাত বিচ্ছেদী গান নিয়ে শুরু করলেন তার পরিবেশনা।

এর রেশ না কাটতে কাটতে নিজে লেখা ও সুর করা ‘মালিক ছাড়া কোন গতি নাই’। তার আপকামিং অ্যালবামের এ গানে তিনি শরিফত, মারীফত, হরিকত ও তরীকত সব তত্ত্ব নিয়ে বলেছেন। দিনশেষে সিদ্ধান্ত মালিক একজনই এবং তাকে ছাড়া গতি নেই। দরাজ গলায় গাইলেন প্রেমের কারণে প্রেমিকের ভিতরে বাইরে জ্বালার গান ‘একমাত্র তোর প্রেমের কারণে’। আবার তার বাঁশিতে মুগ্ধ হবার পালা। প্রেমিকার রজনীকে অবসান না হওয়ার অহ্বান- বাসর সাজিয়ে অপেক্ষা করছেন প্রেমিকের জন্য। গাইলেন ‘ও রজনী হস না অবসান/ আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচাঁন।’ সাধক চাঁনমিয়ার এ গানের শেষ অংশে সারগাম ও বাঁশির সুরে বিমোহিত জনতা। হাত উঁচিয়ে করতালি তাদের তরফ থেকে। সর্বশেষ পরিবেশনা তার বিখ্যাত বিচ্ছেদী ‘শোয়া চাঁন পাখি’। নৌকায় শায়িত বিষে নীল হয়ে যাওয়া প্রেমিকার দেহ। তার পাশে বসে প্রেমিকের আহাজারি। ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ছবিতে ব্যবহৃত এ গানটি প্রতি প্রেমিক হৃদয়ে হাহাকার সৃষ্টি করল। গানের মধ্যখানে তিনি স্মরণ করলেন হূমায়ূন আহমেদকে। একটি তথ্য জানালেন, মূল গানটি উকিল মুন্সীর লেখা হলে শেষ অন্তরা ‘বিশ্বজোড়া এ পিরিতি সবাই দেখি ফাঁকি’ রশিদ উদ্দিন চৌধুরী। দর্শক-শ্রোতার অন্তরে হাহাকার সৃষ্টি করে তিনি বিদায় নেন। এর আগে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে গান পরিবেশন করেন বাংলাদেশের সুনীল কর্মকার ও ইসলাম উদ্দিন কিসসাকার। বারী সিদ্দিকীর পর মঞ্চে আসবেন নূরান সিস্টার্স (ভারত), তাপস এন্ড ফ্রেন্ডস (বাংলাদেশ), সাম মালস ফিচারিং সুহেলা রামান (যুক্তরাজ্য) এবং সর্বশেষ পরিবেশনা করবেন ভারতের পবন দাস বাউল।

Recent Posts

Leave a Comment