পরে ২০০০ সালের ৭ নভেম্বর শিপনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কাশিমপুর কারাগারে বন্দি ছিলেন। চার্জশিট দাখিলের ৫ বছর পর ২০০১ সালে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। অভিযোগপত্র দাখিলের পর এ পর্যন্ত সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে দুজনের। মোট সাক্ষী রয়েছেন ১২ জন।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল শিপনকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার করে। ওই প্রতিবেদন গত ৩০ অক্টোবর হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কুমার দেবুল দে। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে ৮ নভেম্বর শিপনকে আদালতে হাজির ও তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার নথি তলব করেন। নির্দেশ অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষ ৮ নভেম্বর তাকে আদালতে হাজির করেন। এ সময় আদালত শিপনকে কাঠগড়ায় ডেকে তার পরিচয় জানতে চান। দীর্ঘ ১৭ বছর হাজতবাস থাকার বিষয়েও খোঁজ খবর নেন।
পরে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শিপনকে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন দেন। একইসঙ্গে আগামী ৬০ কার্য দিবসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা জজকে নির্দেশ দেন।
গত বছরের ৭ নভেম্বর থেকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ বন্দি ছিলেন শিপন। তবে এই মামলার কোনো অগ্রগতি ছিল না। প্রায় প্রতি মাসেই নির্ধারিত তারিখে শিপনকে আদালতে হাজির করা হলেও হাজির হতেন না কোনো সাক্ষী। তাই শেষ হচ্ছিল না মামলার বিচারকাজও। উচ্চ আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার শিপন জামিনে মুক্তি পান।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বনিক জানান, দুপুরে তার জামিন সংক্রান্ত কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছে। পরে তা যাচাই-বাছাই শেষে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে শিপনকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির পর কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া কিছু টাকা নিয়ে বাসে করে ঢাকার বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন শিপন।