‘সব চরিত্রই আমার কাছে মূল’

 In বিনোদন

 

‘সব চরিত্রই আমার কাছে মূল’

‘একজন অভিনেতার কাছে পার্শ্ব চরিত্র, প্রধান চরিত্র বলে কিছু নেই। সব চরিত্রই আমার কাছে মূল চরিত্র। গল্পে আমার চরিত্রের কতটুকু স্পেস আছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ।’ কথাগুলো বলছিলেন অভিনেতা মাজনুন মিজান।

 

ছোটপর্দার দাপুটে এই অভিনেতাকে দেখা গেছে ‘আমার আছে জল’, ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’, ‘বসগিরি’সহ বেশকিছু চলচ্চিত্রে। নাটকের পাশাপাশি নিয়মিত হতে চান চলচ্চিত্রে। সম্প্রতি অভিনয় ক্যারিয়ার ও অন্যান্য প্রসঙ্গে  আলাপে সাড়া দিয়েছিলেন মিজান।

বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

বেশ কিছু ধারাবাহিকে অভিনয় করছি। এর মধ্যে আছে শাহাদত হোসেন সুজনের পরিচালনায় ‘ছোট বউ’, সুমন আনোয়ারের ‘স্বর্ণলতা’, বিটিভিতে ‘নীল জোছনা’ এবং দাউদ হোসেন রনির রচনা ও সাইফ চন্দনের পরিচালনায় ‘সানগ্লাস’।

শাকিব খানের সঙ্গে শামীম আহমেদ রনির ‘বসগিরি’তে অভিনয় করেছেন।  চলচ্চিত্র নিয়ে ব্যস্ততা কেমন?

রনি সম্ভবত ‘বসগিরি ২’ করবে। ফাখরুল আরেফিন খান পরিচালিত ‘ভুবন মাঝি’তে অভিনয় করলাম। দু’জন মুক্তিযোদ্ধার গল্প নিয়ে এই সিনেমা। আমি আর পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় অভিনয় করেছি।

পরমব্রত’র সঙ্গে অভিনয় করে কেমন লাগলো?

সহশিল্পী হিসেবে পরম অনেক বন্ধুসুলভ ও সহযোগিতাপরায়ণ। তার সঙ্গে অভিনয় করে অনেক ভালো লেগেছে। মনে হলো— তারা (কলকাতার শিল্পীরা) অনেক বেশি সিনসিয়ার, পেশাদার। আমরা ততোটা না। আমরা টাকার ব্যাপারে যতোটা সিনসিয়ার কাজের ব্যপারে ততোটা না। আমাদের ভাবা উচিত ভালো অভিনয় করার জন্য চরিত্রের প্রতি যত্নবান হওয়াটাও পেশাদারিত্বের অংশ।

শামীম আহমেদ রনির ছবিতে আপনাকে আবারো দেখা যাবে শুনেছিলাম। ‘ধ্যাৎতেরিকি’তে অভিনয় করছেন?

এ ব্যাপারে কোনো কথা হয়নি। সে এখন কলকাতায় আছে। দেশে ফিরলেই আলাপ হবে। ওর সাথে আমার বোঝাপড়া অনেক ভালো। ওর গল্পে আমার প্রয়োজন থাকলে এবং চরিত্র পছন্দ হলে কাজ করা হতেও পারে।

নাটকে আপনাকে প্রধান চরিত্রেই দেখা যায়। সিনেমায় দেখা যাচ্ছে পার্শ্ব চরিত্রে। এটা কি সিনেমার জন্য কম্প্রোমাইজ না অন্য কোনো কারণে?

একজন অভিনেতার কাছে পার্শ্ব চরিত্র, প্রধান চরিত্র বলে কিছু নেই। সব চরিত্রই আমার কাছে মূল চরিত্র। গল্পে আমার চরিত্রের কতোটুকু স্পেস আছে এটা গুরুত্বপূর্ণ। যদি অভিনয় করার জায়গা থাকে সেটাই আমার জন্য ভাইটাল। আর ফিল্ম তো অনেক বড় জায়গা, আমাকে প্রমাণ করতে হবে ফিল্মে প্রধান ক্যারেক্টার করতে পারি কি-না! আমার পরীক্ষার পিরিয়ড চলছে।

চলচ্চিত্র নিয়ে ভবিষ্যত ভাবনা কী?

আলাদা কোনো ভাবনা নেই। আমি চলচ্চিত্রের জন্য তৈরি। তবে অবশ্যই নাটক বাদ দিয়ে নয়। যখন কোনো চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হই মন-প্রাণ দিয়ে সেখানেই ডুবে থাকি। যখন নাটকে অভিনয় করি সেখানেও তাই করি। একসঙ্গে দুটোকে গুলিয়ে ফেলতে চাই না।

এই সময়ের নাটক নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

নাটক ভালো কি মন্দ হচ্ছে জানি না। আমরা যে পরিবেশে কাজ করছি তার খুবই বাজে অবস্থা। আমরা একদম খাদের কিনারায় আছি, যে কোনো সময় খাদে পড়ে যাবো। এখান থেকে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে এবং ঘুরে দাঁড়াবো। নাটকের মানের বিষয়ে বলবো ৫০টি নাটকের মধ্যে ৫টি খারাপ হতেই পারে। এটা অন্য ব্যাপার।

আমাদের সমস্যা হলো এখানে কোনো নিয়ম-কানুন নেই, অর্গানাইজেশন নেই। প্রতি মাসে এই ইন্ডাস্ট্রিতে ৮০০ কোটি টাকা লেনদেন হয়। নাটকের অনেকগুলো সংগঠন এক হয়েছে। ৩০ নভেম্বর মহাসমাবেশ হবে জাতীয় শহীদ মিনারে। ওইদিন কোনো শুটিং হবে না। আশা করছি এ সবের মধ্য দিয়েই সবকিছু নিয়ম-কানুনের মধ্যে চলে আসবে।

চ্যানেলে চ্যানেলে বিদেশি নাটক। ঝোঁক মনে হচ্ছে আরো বাড়ছে।

বিদেশি নাটক বন্ধ করে দেশি নাটককে প্রধান্য দেওয়া উচিত। চ্যানেলগুলো ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে।

হুমায়ূন আহমেদের অনেক নাটক-চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৩ নভেম্বর তার জন্মদিন। তাকে নিশ্চয় মিস করেন?

অনেক মিস করি স্যারকে। হুমায়ূন আহমেদ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ একজন লেখক। বাংলা ভাষাভাষীকে তিনি বই পড়তে শিখিয়েছেন। এটা একজন বাঙালি হিসেবে বলছি। অভিনয়ের ক্ষেত্রে বলব— স্যারের কাছে আমি অনেক কৃতজ্ঞ। নাটক-চলচ্চিত্রে অভিনয় করার চেয়ে বড় ব্যাপার হলো তার সঙ্গে থাকতে পারার অভিজ্ঞতা। তিনি সাধারণ আবার সাধারণ না। স্পিরিচুয়াল পাওয়ার ছিল স্যারের মাঝে। বাংলা ভাষাভাষী যতোদিন থাকবে হুমায়ুন আহমেদকে ভুলতে পারবে না।

সবশেষে কী বলতে চান?

সবাই দেশপ্রেমিক হন। তাহলে বিদেশি চ্যানেলের আগ্রাসন বন্ধ হয়ে যাবে। ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াবে।

Recent Posts

Leave a Comment