সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাঁওতালদের লাগানো ধানগুলোর মধ্যে আগে যে ধানগুলো পেকেছে সেগুলো কাটার কথা। তবে শুক্রবার কর্তৃপক্ষ এসব নিয়মের তোয়াক্কা না করে সমানে কাঁচা, আধাকাঁচা ধান কাটছেন। এতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাঁওতালরা।
এ প্রসঙ্গে সাহেবগঞ্জ ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাস্কে জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ৮০ কেজির ২৬ বস্তা ধান তাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন মিল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে শতকরা ৪০ ভাগ ধান কাঁচা। আর এক সপ্তাহ পরে ধানগুলো কাটলে তাদের লোকসান হতো না।
শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি মেশিন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের জমির ধান কাটা হচ্ছে। এছাড়া আরো ১০০ জন শ্রমিক ধান কাটার কাজ করছেন।

এর আগে মঙ্গলবার রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন, খামারের ১ হাজার ৮৪২ একর জমির মধ্যে ১৩৫ একর জমিতে সাঁওতালরা ধান চাষ করেছেন। এর মধ্যে ৩৫ একর জমির ধান কাঁচা আছে। ধানগুলো পাকতে ১০ দিন সময় লাগতে পারে। এ কারণেই আগে পাকা ধান কাটা শুরু করা হবে। পাকা ধান কাটতেই কাঁচা ধানগুলো পেকে যাবে। তারপর সেগুলোও কাটা হবে।
রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত একটি মেশিন দিয়ে ২ একর জমির ধান কাটা ও মাড়াই করা হয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ধানের বস্তা সাঁওতালদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
শনিবার সকাল থেকে আরো ধান কাটা মেশিন আনা হবে এবং শ্রমিক সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে জানান ডিজিএম আলমগীর হোসেন।
সাহেবগঞ্জ ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাস্কে আরো জানান, একদিকে, চিনিকল কর্তৃপক্ষের মামলা, হামলার কারণে নিদিষ্ট সময়ে আবাদি জমিতে সার ও পানি দিতে না পারায় ফলন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তার ওপর চিনিকল কর্তৃপক্ষ কাঁচা ধান কেটে দেওয়ায় এটা ‘কাটা ঘায়ে নুন ছিটানো’ হয়েছে।

৬ নভেম্বর সাহেবগঞ্জ চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে চিনিকল শ্রমিক কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এতে ৩ সাঁওতাল নিহত ও পুলিশসহ উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হন। এ ঘটনার ১১ দিন পর সাঁওতালদের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় মামলা করা হয়। এতে ৬শ’ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ এ পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে।