এফবিআই প্রধান জেমস কমি তার রাজনৈতিক পক্ষপাতমুলক অবস্থান থেকে এমন উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও প্রেসিডেন্ট মনে করেন না-এমন পরিষ্কার বক্তব্য দেয়া হয়েছিল হোয়াইট হাউস থেকে। তবে, নির্বাচনের ৫ দিন আগে এই ই-মেইল কেলেঙ্কারি ইস্যুটি হিলারীকে যেভাবে পেছনে ফেলে দিয়েছে, তাতে নিজেদের মেজাজ আর ক্ষোভ লুকিয়ে রাখতে পারছেন না কেউই।
যেই ই-মেইল ইস্যুকে কেন্দ্র করে নতুন এই ভীতি সৃষ্টি হয়েছে ডেমোক্রাট শিবিরে এবং নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে সব হিসাব নিকাশ উল্টে যাওায়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেই ভীতির মুলে যে এফবিআই এর কার্যক্রমকে এবার প্রকাশ্যে সমালোচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। বলছেন, আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে, সুনির্দিষ্ট তথ্য উপাত্ত ছাড়া কোনো অনুমানের ভিত্তিতে ঘোষণা দেইনা।
‘আমরা কেবল অনুমানের ভিত্তিতে কারো বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা দেই না। বিশেষত সময়টা যদি এমন গুরুত্বপূর্ণ হয়’-এফবিআই প্রধানের নাম না ধরে সমালোচনা করাকে প্রেসিডেন্ট ওবামার ক্ষেত্রে একটি বিষ্ময়সুচক মন্তব্য বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। বোঝাই যাচ্ছে এই নির্বাচন হিলারীর জন্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ, প্রেসিডেন্ট ওবামার জন্য তার চেয়ে অনেক বেশি।
উল্লেখ্য এফবিআই প্রধান জেমস কমি একজন নিবন্ধিত রিপাবলিকান রাজনীতির সমর্থক, তবে দলমতের ঊর্ধে উঠে তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ওবামা।
‘নাও দিস’, নামক অনলাইন ভিত্তিক প্রচারমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ওবামা হিলারীকে মন থেকে বিশ্বাস করেন এবং আমেরিকার জন্য নিবেদিত প্রাণ একজন রাজনীতি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, হিলারী জানেন এই দেশের প্রয়োজন কি, আর তরুণদের জন্য কেমন দেশ গঠন করা দরকার। ‘আমি জানি তার বিরুদ্ধে ই-মেইল ব্যবহার নিয়ে অনেকের প্রশ্ন আছে। কিন্তু এটা এমন ঠুনকো অপরাধ যা শাস্তিযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়নি। আমাকে যারা চেনেন, জানেন তারা বুঝতে পারবেন, আমি শুধু মাত্র রাজনীতিতে জয় পাওয়ার জন্য হিলারীকে সমর্থন দিচ্ছি না। আমি মনে প্রাণে জানি আর বিশ্বাস করি হিলারী একজন সৎ রাজনীতিক, এবং তার সকল কাজ আমেরিকার স্বার্থেই নিবেদিত ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে’- বলছিলেন প্রেসিডেন্ট ওবামা।
সেই বিশ্বাস আর অন্তরের ভালোবাসা থেকেই হিলারীর জয়ের জন্য বিরল রাজনৈতিক প্রচারণা শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। নর্থ ক্যারোলাইনাতে ভোটারদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট বলছেন, আমি বুঝি যে হিলারীর বিষয়ে কারো কারো মনে প্রশ্ন আছে, আমাকে নিয়ে কি আছে? না থাকলে ভোটকেন্দ্রে যান, আমি বলছি আপনাদের’।

নর্থ ক্যারোলাইনা এমন একটি রাজ্য যেখানকার ইলোক্ট্ররাল ভোট নিশ্চিত করেছিল ২০১২ সালে প্রেসিডেন্ট ওবামার হোয়াইট হাউজ জয়। এবার ডেমোক্রাটরা এই নর্থ ক্যারোলাইনাতে হিলারীকে সমান ভাবে নির্বাচিত করবেন এমনটাই আশা করছে হিলারীর ক্যাম্পেইন সমর্থকরা। তবে অনুপস্থিত ভোট ব্যালট আর অগ্রিম ভোটে আফ্রিকান আমেরিকানদের পিছিয়ে থাকায় চিন্তিত ডেমোক্রাটরা। তাই প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিজেই ভোটারদের ঘুম ভাঙাতে হিলারীর সমর্থনে নির্বাচনী র্যালি করছেন এই রাজ্যে, আর বলছেন কেন, একটি ভোট্ও গুরুত্বপূর্ণ। ‘
২০১২ সালে এখানে আমি জয় পেয়েছিলাম ১৪ হাজার ভোটে। যেটি আমাকে হোয়াইট হাউসে টিকিয়ে রেখেছিল। ১৪ হাজার ভোট মানে বুঝতে পেরেছেন কত ব্যবধান? প্রতিটি প্রিসিন্ট (ইউনিয়ন) থেকে মাত্র ২টি করে বেশি ভোট। এখন প্রতিটি পিসিন্ট এর ২ জন করে যদি ঘরে বসে থাকতেন, তাহলে আমি যেতে পারতাম হোয়াইট হাউসে?’ -ভোটারদের কাছে প্রশ্ন রাখেন ওবামা।
নর্থ ক্যারোলাইনা তুলনামূলক ভাবে আফ্রিকান আমেরিকান ভোটারদের বসবাসের এলাকা। এখানে জয়ের জন্য এই কালোদের ভোট অপরিহার্য। ২০০৮ এবং ১২ সালে ওবামা এমন কালোদের বসবাস রাজ্যগুলিতে জয় পেয়েছিলেন। এবার সেগুলোকে গণনায় ধরে হিলারীর ২৭০ ইলোক্ট্ররাল ম্যাপে জয় নিশ্চিত ধরা হচ্ছিল। তবে অগ্রিম ভোট চিত্র বলছে, এবার অন্তত ২২ লক্ষ আফ্রিকান আমেরিকান এখনো ভোট দেননি, ২০১২ সালের তুলনায়। সেটা ডেমোক্রাটদের চিন্তার রেখা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। কেননা, বিপরীতে সাদা আমেরিকানরা এবারে অন্যবারের তুলনায় বেশি যাচ্ছেন ভোটকেন্দ্রে।
এর বাইরে হিলারীর জয়ের জন্য বাজি রাখা অন্তত ৩টি রাজ্যের একটি নর্থ ক্যারোলাইনা। এখানকার ভোটারদের প্রিয় মানুষ প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন নর্থ ক্যারোলাইনার ভোটারদের বলেন, ভোট দিতে না যাওয়া মানে হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জয় পেতে সাহায্য করা।
‘পুরো রিপাবলিক বা দেশের ভাগ্য এখন তোমাদের হাতে। তোমরা ভোট না দিলে এমন একজন ব্যক্তি নির্বাচিত হয়ে আসতে পারে যার হাতে দেশ নিরাপদ নয়। এটা কোন রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, এতদিন ধরে যা কিছু অর্জন আমার তা ধুলিস্যাত হয়ে যাবে। সুতরাং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নির্বাচিত করে ‘বাঁশ’ খাবেন না দয়া করে’। ৮ নভেম্বর নির্বাচনের আগে যে কয়টি দিন বাকী আছে তার প্রতিটি দিন হিলারীর সমর্থনে মাঠে থাকার ঘোষণা এসেছে প্রেসিডেন্ট দপ্তর থেকে