আজ চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচন : প্রার্থী ৮৬ * ভোটার ১ হাজার ২শ’ ৬০ * কেন্দ্র ১৫

এদিকে এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ। চেয়ারম্যান প্রার্থী তিনজনই আওয়ামী লীগের তো আছেনই, এমনকি ১৫টি ওয়ার্ডে সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদেরও অধিকাংশ আওয়ামী লীগের। তাই এ নির্বাচন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নির্বাচন বলা যায়। আর এ জন্যেই নির্বাচনের পর ব্যাপক সহিংসতার আশঙ্কা করছে জনগণ। বিশেষ করে চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব উত্তর ও কচুয়ায় ব্যাপক সহিংসতার আশঙ্কা করছে ভোটার ও জনগণ।
এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সর্বশেষ চারজন প্রার্থীর জন্যে প্রতীক বরাদ্দ হলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন তিনজন। এরা হচ্ছেন : অ্যাডঃ নূরুল আমিন রুহুল (ঘোড়া), আলহাজ্ব ওচমান গণি পাটওয়ারী (মোবাইল) ও আলহাজ্ব মোঃ ইউছুফ গাজী (আনারস)। এ তিনজনই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় ডাকসাইটে নেতা। অপর প্রার্থী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান (মোটরসাইকেল) ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাই কার্যত ভোটযুদ্ধে চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন তিনজন।
চাঁদপুর জেলা পরিষদের ১৫টি সাধারণ ওয়ার্ডের মধ্যে ১নং ওয়ার্ডে এবং সংরক্ষিত পাঁচটি ওয়ার্ডের মধ্যে ১নং ও ২নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ভোট হচ্ছে না। কারণ, এ তিনটি ওয়ার্ডে তিনজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন।
এ দিকে এ নির্বাচনকে ঘিরে কোনো কোনো প্রার্থী বিশেষ করে ২/১জন চেয়ারম্যান প্রার্থী কেন্দ্র দখল, ভোটারদের অবৈধভাবে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রভাবিত করা, কেন্দ্রে পেশী শক্তির প্রদর্শন এবং ভোটারদের প্রকাশ্যে ভোট দেয়ার ব্যাপারে প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপিরা বাধ্য করছেন বলে আশঙ্কা করছেন। এছাড়া ভোটার ও কর্মীদের হুমকি, ধমকি, নানাভাবে হয়রানি এবং ভোট দেয়ার জন্যে ভোটারদের নগদ অর্থ দেয়ারও অভিযোগ করেছেন কোনো কোনো চেয়ারম্যান প্রার্থী রিটার্নিং অফিসার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও পুলিশ সুপারের কাছে।
এসব নানা অভিযোগ ও আশঙ্কার বিষয়ে কথা হয় এ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতাউর রহমানের সাথে। তিনি জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে ১জন করে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন ক’জন কর্মকর্তার নেতৃত্বে র্যাব ও বিজিবি সদস্যদের সমন্বয়ে স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। আর কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারের উপর কঠোর বিধি নিষেধের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এ কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাই শুধু মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। বুথের ভেতরে কোনো সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার ও পোলিং এজেন্ট মোবাইল ব্যবহার করতে পারবে না। এমনকি কোনো ভোটার মোবাইল নিয়ে বুথের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না। ভোটও দিতে হবে একান্ত গোপনীয়ভাবে, যেখানে অন্য কেউ থাকতে পারবে না।