আলেপ্পোর পরিস্থিতি এখন কী হবে?
চার বছর ধরে সিরিয়ার প্রাচীন নগর আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চল ছিল বিদ্রোহীদের দুর্গ। সে পরিস্থিতি এখন পাল্টে গেছে। আলেপ্পোর ৭৫ শতাংশ এলাকা সেনাদের দখলে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের জয় বলতে গেলে নিশ্চিত। তবে থামবে কি যুদ্ধ? অবসান ঘটবে কি সিরিয়ার মানুষের অশেষ দুর্ভোগের?
এর উত্তর খুব আশাব্যঞ্জক নয়। বাশার আল আসাদ তেমন আভাসই দিলেন। জানালেন, তাঁর বাহিনীর আলেপ্পো জয় সিরিয়ার যুদ্ধ শেষ হতে একটি বড় পদক্ষেপ হবে। তবে এর মধ্য দিয়ে শিগগিরই বন্ধ হচ্ছে না সিরিয়ার যুদ্ধ।
বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, দীর্ঘ যুদ্ধের পর মঙ্গল ও বুধবার আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সিরিয়ার আল ওয়াতান পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ বলেছেন, সিরিয়ায় পাঁচ বছর ধরে চলতে থাকা গৃহযুদ্ধ অবসানে তাঁর সেনাবাহিনীর আলেপ্পো জয় একটি ‘বিশাল পদক্ষেপ’। তবে উত্তরাঞ্চলের শহরটিতে বিদ্রোহীদের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে সংঘর্ষ বন্ধ হবে না।
পুরোনো শহর আলেপ্পোর সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি হাতছাড়া হওয়ার পর শহরের লোকজনকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার সুযোগ দিতে পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে বিদ্রোহীরা। যদিও প্রেসিডেন্ট আসাদ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা মানেননি, তাঁর সেনাবাহিনী আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তিধর পাঁচ দেশ দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো সত্ত্বেও সেনবাহিনী যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছে।
সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট আসাদ বলেছেন, সন্ত্রাসীরা ‘চারপাশেই রয়ে গেছে’। তিনি বলেন, ‘এটা সত্যি যে আলোপ্পো আমাদের জন্য একটি বিজয় হয়ে দাঁড়াবে। এর মানে এই নয় যে সিরিয়ায় যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। যুদ্ধ অবসানে এটা বড় পদক্ষেপ হয়ে দাঁড়াবে। সন্ত্রাসীরা চারপাশে রয়েছে। এমনকি আলেপ্পোতে যুদ্ধ শেষ হলেও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ চলবে।’
যেমনটি ভাবা হয়েছিল, পূর্ব আলেপ্পো এর চেয়ে দ্রুত বিদ্রোহী হাতছাড়া হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রের নানান গল্প এখন বেরিয়ে আসছে। সেসব এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে যুদ্ধের তাণ্ডব। শোনা যাচ্ছে, পুরোনো শহরসহ অন্যান্য শহর থেকে বিদ্রোহীদের পিছু হটাতে কোনো লেনদেন হয়েছে।
আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নুসরা ফ্রন্টসহ বেশির ভাগ কট্টর বিদ্রোহী তাদের বাকি এলাকাগুলোতে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। সিরিয়ার সামরিক বাহিনী এবং এর মিত্র রাশিয়া ও ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আমলে নিচ্ছে না, এমনকি মানবিক দিকও বিবেচনায় নিচ্ছে না।
গত সোমবার রাশিয়ার ফিল্ড হাসপাতালে মর্টার হামলার ঘটনা রাশিয়াকে আলেপ্পোর যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ব্যাপারে আরও অনিচ্ছুক করেছে। লাখো সিরীয় এখনো বিদ্রোহী-অধ্যুষিত দক্ষিণ-পূর্ব আলেপ্পোতে অবরুদ্ধ হয়ে আছে। বিদ্রোহীরা বলছে, সিরিয়ার অবরুদ্ধ মানুষ কঠিন বিপদের মধ্যে রয়েছে। এসব মানুষের দুর্ভোগ কমাতে যেকোনো পদক্ষেপকে তারা সমর্থন দেবে। সিরীয়দের মধ্যে একজন বলেছেন, অবরুদ্ধ এলাকাগুলোতে প্রচুর লোক আটকে পড়েছে। ধরপাকড়, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনে মৃত্যুর আশঙ্কাও রয়েছে।