জেলা পরিষদ নির্বাচনের আজ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন

 In জাতীয়
জেলা পরিষদ নির্বাচনে আজ ১১ ডিসেম্বর রোববার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। আগামীকাল ১২ ডিসেম্বর সোমবার চূড়ান্ত প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। এর পরপরই প্রার্থীরা প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত ভোটযুদ্ধে নেমে যাবেন। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৮ ডিসেম্বর।

চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট ১শ’ ৩জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১০জন, সাধারণ ১৫টি ওয়ার্ডে সদস্য পদে ৮০জন এবং সংরক্ষিত পাঁচটি ওয়ার্ডে নারী সদস্য পদে ১৩জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সাধারণ ১নং ও সংরক্ষিত ২নং ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র একজন করে জমা দেয়ায় এ দু’টি ওয়ার্ডে ২জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন। যদিও রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। এই দুজন হচ্ছেন : সাধারণ ১নং ওয়ার্ডে মোঃ জাহাঙ্গীর হাওলাদার এবং সংরক্ষিত ২নং ওয়ার্ডে খোদেজা রহমান। দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে চেয়ারম্যান পদে ১ জন (সৈয়দ আহমদ মজুমদার, নৌ কমান্ডো) ও সাধারণ সদস্য পদে ১১জনের মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। এদের মধ্যে সাধারণ সদস্য প্রার্থী নয়জন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আপীল করলে তাদের সকলের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন আপীল কর্তৃপক্ষ। তাই সাধারণ ওয়ার্ডে সদস্য পদে এখন প্রার্থী রইলো ৭৮জন আর চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী রইলো নয়জন। আজ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় পার হলেই বুঝা যাবে নির্বাচনী মাঠে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে কারা রইলেন।

চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে যে নয়জন প্রার্থী এখনো রয়েছেন তাঁদের সবাই আওয়ামী লীগ নেতা এবং একজন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার। এদিকে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর নাম প্রথমে ঘোষণা করা হলেও তাঁর ভোটার সংক্রান্ত জটিলতায় তিনি নির্বাচন করতে না পারায় সেটি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। ফলে পুনরায় প্রার্থী ঘোষণার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত দল থেকে একক কোনো প্রার্থী ঘোষণা দেয়া হয়নি এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণাও আসেনি। তাই সকলেই ভেবে নিয়েছেন এটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের একক কোনো প্রার্থী থাকছে না, এটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। যিনি নির্বাচিত হয়ে আসবেন তিনিই দলের চেয়ারম্যান হিসেবে বিবেচিত হবেন। এ দিকে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের থেকে অনেকেই আজ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন বলে জানা গেছে। এমন ৪/৫জনের নাম শোনা যাচ্ছে। যদি তা-ই হয়, তাহলে দলের প্রার্থী হিসেবে থাকবেন ৩/৪ জন।

গতকাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ৯জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনকে মাঠে সক্রিয় দেখা গেছে। তাঁরা প্রতিদিনই ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন এবং ভোট চাচ্ছেন। এ তিনজন হচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ্ব ওচমান গণি পাটওয়ারী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এমএ ওয়াদুদ। ওচমান পাটওয়ারী বেশ ক’দিন আগ থেকেই মাঠ চষে বেড়ালেও নূরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ানকে গত শুক্রবার থেকে গণসংযোগ করতে দেখা যায়। গতকালও তিনি দিনভর গণসংযোগ করেছেন। এছাড়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এমএ ওয়াদুদও তাঁর সাথী মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে সভা করছেন। আর অন্যদের অনেকটা নিষ্ক্রিয়ই দেখা যায়। সর্বশেষ প্রার্থী ক’জন থাকছেন তা দেখতে আজ বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

Recent Posts

Leave a Comment