ওই স্তূপ থেকে ময়লা-আবর্জনাগুলো গিয়ে মিশে যাচ্ছে বংশী নদীতে। আর এতে করে পৌর এলাকার ময়লা-আবর্জনা দিয়েই দূষিত হচ্ছে নদীটি। পৌর এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার নামে ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে না ফেলে নদী তীরে ফেলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে রয়েছে ক্ষোভ।
সরেজমিনে সাভার পৌর সভার ৪ নং ওয়ার্ডের নামাবাজার সংলগ্ন ফোর্ড নগর ব্রিজ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ছোট ছোট ভ্যান যোগে সাভার পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লার বাসাবাড়িসহ হোটেল রেস্তোরাঁ থেকে ময়লা-আবর্জনা এনে ফেলা হচ্ছে ব্রিজটির ঠিক দক্ষিণ কোনায় বংশী নদীর তীরে। নদী তীরের ওই ময়লা-আবর্জনার স্তুপ থেকে ময়লাগুলো গিয়ে সারাসরি পড়ছে বংশী নদীতে। এতে করে নদীর পানি হচ্ছে দূষিত। দূষণের ফলে নদীটি হারাতে বসেছে তার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী রুপ ও যৌবন।
শুধু তাই নয়, নদীর পানি দূষণের ফলে নদীতে মিলছে না আগের মতো মাছ। এছাড়া নদীর পানিতে নামা মাত্রই শরীরে দেখা দিচ্ছে চুলকানি। যা পরবর্তীতে চর্ম রোগে রুপ ধারণ করছে। আর এতে করে পৌর এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার নামে ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে না ফেলে নদী তীরে ফেলে নদী দূষণের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের উপর রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী বংশী নদীটি দিন দিন দখল ও দূষণের শিকার হচ্ছে। বিভিন্ন বেসরকারি সামাজিক সংগঠন নদীটি দখল ও দূষণমুক্ত করতে বিভিন্ন সময়ে নানা কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে থাকে। তাদের তৎপরতায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অনেক সময় নদীটি দখল ও দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ নেয়।’
তবে পৌর এলাকার ময়লা-আবজর্না বংশী নদীর তীরে ফেলা সেই সাথে সেই ময়লা-আবর্জনা নদীর পানিতে মিশে নদী দূষিত হওয়ায় বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা বলে মনে করেন এই স্থানীয় বাসিন্দা।
তিনি অনেকটা ক্ষোভ নিয়েই বলেন, ‘অন্তত বংশী নদীর যে অংশটুকু সাভার পৌর এলাকার মধ্যে পড়েছে সেই অংশটুকু হলেও পৌর কর্তৃপক্ষের উচিৎ দখল ও দূষণ মুক্ত রাখা। কিন্তু সেটি না করে খোদ তারাই দূষণ করে যাচ্ছে নদীটি।’ আর এতে করে নদীটি দূষণ করতে অন্যরা সাহস পাচ্ছে বলেও দাবি এই বাসিন্দার।
নদীতে মাছ ধরতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন নামে অপর এক ব্যক্তি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই এই বংশী নদী থেকে মাছ ধরে খেতাম। কিন্তু দিন দিন নদীতে ময়লা-আবর্জনা পড়ে পানি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। দীর্ঘ সময় নদীতে জাল ফেলার পর নামমাত্র মাছ পাওয়া যায়।’

এছাড়া তিনি আরো বলেন, ‘নদীতে ময়লা-আবর্জনা পড়ার কারণে পানি এতটাই দূষিত হয়েছে যে পানিতে একটু সময়ের জন্য নামলেই চুলকানি শুরু হয়। যা পরবর্তীতে শরীরে চর্ম রোগে রূপ নেয়।’
সাভার পৌরসভার বিভিন্ন মহল্লা থেকে ময়লা-আবর্জনা এনে নদী তীরে ফেলার বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার মেয়র আব্দুল গনি জানান, পৌর এলাকার কোনো বাসা অথবা হোটেল রেস্তোরাঁ থেকে নদী তীরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয় না। তবে তিনি ওই স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য সাভার নামাবাজার ব্যবসয়ীদের দায়ী করেন।
এছাড়া তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিদিন নামাবাজার থেকে অন্তত ৩/৪ ভ্যান ময়লা-আবর্জনা হয়। যা ওই বাজারের ব্যবসায়ীরা পরবর্তীতে নদীর তীরে ফেলেন।’
সাভার নামাবাজারটি তার পৌরসভার আওতাধীন তাই তিনি বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে নদী দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান।