শৃঙ্খলের দড়ি’ ছিঁড়ে ফেলব: এরশাদ
‘শৃঙ্খলের মধ্যে’ আর না থাকার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ; এবং তাকে শৃঙ্খলের মধ্যে রাখার জন্য আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয়কে দায়ী করেছেন তিনি।এরশাদ বলেছেন, “নব্বই এর পর কোনো সরকারই আমার সঙ্গে সুবিচার করেনি। আমি একজন শৃঙ্খলবদ্ধ রাজনীতিবিদ। বিএনপির আমলে দায়ের করা মামলা এখনও সচল রেখেছে সরকার।
“সবাই আমাকে শৃঙ্খলের দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতে চায়। কিন্তু এবার আমাকে আর আটকে রাখতে পারবে না। সকল শৃঙ্খলের দড়ি ছিঁড়ে ফেলব। জাতীয় পার্টি আবার ক্ষমতায় যাবে।”
আগামী ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কেন্দ্রীয় সমাবেশকে সামনে রেখে বুধবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার এক সভায় এই বক্তব্য দেওয়ার মধ্য দিয়ে দৃশ্যত নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করার প্রয়াস চালালেন এরশাদ।
গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সামরিক শাসক এরশাদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দিকে হেলে এখন আওয়ামী লীগের কাছাকাছি রয়েছেন।
বিএনপিবিহীন সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসার পাশাপাশি সরকারেও যোগ দিয়েছে এরশাদের দল জাতীয় পার্টি; তিনি নিজে হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত, তার স্ত্রী রওশন এরশাদ হয়েছেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা।
নানা নাটকীয়তার মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর জাতীয় পার্টির দ্বিমুখী নীতি নিয়ে দলের মধ্যেও বিরোধিতা রয়েছে।
‘সময় হলেই’ সরকার ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে এলেও বার বার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য আলোচিত এরশাদের এক্ষেত্রে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ এখনও দেখা যায়নি।

সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রতিনিধি সম্মেলনেও সরকারের সমালোচনার সুর ছিল এরশাদের কণ্ঠে।“দেশে কোথাও শান্তি নাই, নিরাপত্তা নাই। গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ভোটের অধিকার লুণ্ঠিত হচ্ছে। দেশের রাজনীতিবিদদের ভেতরে কোনো সহাবস্থান নেই। একে অপরকে প্রতিপক্ষ মনে করে। এভাবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র চলতে পারে না।”
নিজের শাসনামলের তুলনা করে এরশাদ বলেন, “আমার শাসনামলে মানুষের মধ্যে কোনো হাহাকার ছিল না, সংশয় ছিল না।
“তাই মানুষ আবার জাতীয় পার্টির শাসনামলে ফিরে যেতে চায়। আগামীতে একক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়ে দেশের মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেবে, দেশে শান্তি সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।”
দলের চেয়ারম্যানের কথায় সায় দিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, “জাতীয় পার্টি বিগত দিনের চেয়ে এখন অনেক শক্তিশালী।
“অত্যাচার-নির্যাতন করে জাতীয় পার্টির অগ্রযাত্রাকে কেউ ব্যাহত করতে পারেনি। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও আমাদের পার্টি সত্যিকারের গণমানুষের অধিকার আদায়ের নির্ভরযোগ্য প্লাটফর্ম।”
প্রতিনিধি সম্মেলনে জাতীয় পার্টি ঢাকা দক্ষিণের আহ্বায়ক এবং দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা জানান, মহাসমাবেশে ঢাকা দক্ষিণ থেকে ৩৫ হাজার নেতা-কর্মী জমায়েতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন তারা।
সভায় জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, শেখ সিরাজুল ইসলাম, এস এম ফয়সল চিশতী, সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, মীর আব্দুস সবুর আসুদও উপস্থিত ছিলেন।
