সদর উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া
চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডাঃ দীপু মনি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের নিয়ে ‘কুচক্রী মহলের’ নানা অপপ্রচার ও মিথ্যা রটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সদর উপজেলার ৯জন ইউপি চেয়ারম্যান। গত বৃহস্পতিবার চাঁদপুরের ক’টি দৈনিক পত্রিকায় জেলা পরিষদ নির্বাচনে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর উদ্ধৃতি দিয়ে ‘জেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে কোটি টাকার বরাদ্দ’ শিরোনামে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এটিকে ‘নির্লজ্জ মিথ্যাচার’ এবং ‘হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ উল্লেখ করে এর প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ওই নয় ইউপি চেয়ারম্যান। এ নয় চেয়ারম্যান হচ্ছেন : সদর উপজেলার ১নং বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শামীম খান, ২নং আশিকাটি ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল মাস্টার, ৫নং রামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আল মামুন পাটওয়ারী, ৭নং তরপুরচ-ী ইউপি চেয়ারম্যান ইমাম হাসান রাসেল গাজী, ১০নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম খান, ১১নং ইব্রাহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান কাশেম খান, ১২নং চান্দ্রা ইউপি চেয়ারম্যান খান জাহান আলী কালু, ১৩নং হানারচর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস ছাত্তার রাঢ়ী ও ১৪নং রাজরাজেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী হযরত আলী বেপারী।
এসব চেয়ারম্যান তাদের লিখিত এক বিবৃতিতে বলেন, চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ডাঃ দীপু মনিকে জড়িয়ে জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে গত বৃহস্পতিবার চাঁদপুরের স্থানীয় ক’টি দৈনিক পত্রিকায় দু’জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর উদ্ধৃতি দিয়ে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে আমরা তার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা সদর উপজেলার নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা ওই মিথ্যা সংবাদে চরম ক্ষুব্ধ হয়েছি। আমরা মনে করি প্রকাশিত ওই সংবাদটি নির্লজ্জ মিথ্যাচার ও হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একই সাথে আমরা এ হীন কর্মকা-কে ‘উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টার একটি অংশ’ বলে মনে করি। অর্থাৎ যারা অবৈধভাবে অর্থ সম্পদের পাহাড় গড়ে এখন জেলা পরিষদ নির্বাচনে ওই কালো টাকা ছড়িয়ে এবং পেশী শক্তির প্রভাব খাটিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করতে চাচ্ছেন তারাই উল্টো এখন আমাদের এমপি মহোদয় ও আমাদেরকে নিয়ে ওইসব কুৎসা রটাচ্ছেন।
বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় ক’টি পত্রিকায় ‘জেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে কোটি টাকার বরাদ্দ!’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি পড়ে আমরা খুবই মর্মাহত হয়েছি। ওই সংবাদে স্থানীয় এমপির ‘বিশেষ’ বরাদ্দ নিয়ে যেসব কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এমপি মহোদয় আমাদেরকে পূর্বেই বলে দিয়েছেন নির্বাচনের আগে এ বরাদ্দ দেয়া নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। ইউপি চেয়ারম্যানগণ বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করেন, আমাদের এমপি মহোদয় যতবারই চাঁদপুর আসেন ততবারই আমরা তাঁর বাসায় এসে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করি। আমাদের এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ এবং সমস্যা নিয়ে এমপি মহোদয়ের সাথে কথা বলি। গত ২১ ডিসেম্বর বুধবার তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকা হাইমচরে একদিনের সরকারি সফরে আসেন। এদিন তিনি হাইমচরে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার উদ্বোধন শেষে নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘন হবে বিধায় আমাদের সাথে সাক্ষাৎ না করে সরাসরি ঢাকায় চলে যান। এ ছাড়া সেদিন এমপি মহোদয়ের বাসায় শুধু আমরা সদরের বিভিন্ন ইউপির চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা এবং জেলা ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছিলাম। হাইমচরের চেয়ারম্যান-মেম্বাররা সেদিন চাঁদপুরে আসেন নি, তাঁরা হাইমচরে বিজয় মেলার অনুষ্ঠানে ছিলেন। এমপি মহোদয়ের বাসায় বিশেষ বরাদ্দ তথা টিআর, কাবিখা বা কাবিটা বিষয়ে কোনো কথাই হয়নি। অথচ প্রকাশিত ওই সংবাদে এ নিয়ে মিথ্যাচার করা হয়েছে। বিবৃতিতে তারা আরও উল্লেখ করেন, আমরা আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও মেম্বার। তাই আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে আমরা আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষেই থাকবো এটাই স্বাভাবিক। প্রকাশিত ওই সংবাদটি নিয়ে ভোটার ও জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করছি।