স্কুল কলেজ জাতীয়করণে নৈরাজ্য

 In শীর্ষ খবর

শরীফুল আলম সুমন

সরকার প্রতিটি উপজেলায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি কলেজ জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যে তিন দফায় ২৮১টি কলেজ জাতীয়করণের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন।

অর্ধশত স্কুলও জাতীয়করণ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। কিন্তু এসব স্কুল ও কলেজ জাতীয়করণ নিয়ে নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়েছে। চাকরি সরকারি হবে—এমন কথা বলে শিক্ষকদের কাছ থেকে দেড় থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। অনেকটা প্রকাশ্যেই এ টাকা তুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ও গভর্নিং বডি। আবার জাতীয়করণের সম্মতি পাওয়ার আগে ও পরে পেছনের তারিখ দিয়ে পদ ছাড়াই অতিরিক্ত শিক্ষক নেওয়া হয়েছে টাকার বিনিময়ে। ফলে শিক্ষকের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে গেছে। অনেক উপজেলায় দীর্ঘদিনের পুরনো ও যোগ্য প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে জাতীয়করণের তালিকায় রাখা হয়েছে অযোগ্য প্রতিষ্ঠান। এতে পুরো এলাকায়ই ছড়িয়ে পড়েছে অসন্তোষ।গত মাসে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া কলেজ জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর আন্দোলনে পুলিশি হামলার মধ্যে পড়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ওই কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ (৫০) ও পথচারী সফর আলী (৭০)। এ ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে ওই কলেজের রসায়ন বিভাগে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক রুহুল আমিনের বরাত দিয়ে বলেছে, ফুলবাড়িয়া কলেজের শিক্ষক আবুল হাসেমের নেতৃত্বে জাতীয়করণের লক্ষ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন করছিল শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা। কলেজটি জাতীয়করণ ঘোষণার আগেই স্থানীয় এমপি আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে অনেক শিক্ষক নিয়োগ দেন এবং আগের শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকেও আর্থিক সুবিধা নেন। কিন্তু জাতীয়করণের লক্ষ্যে পরিদর্শনের পর অজ্ঞাত কারণে কলেজটি তালিকা থেকে বাদ পড়ে। পরে এমপির সহযোগিতায় নন-এমপিওভুক্ত বেগম ফজিলাতুননেসা মুজিব মহিলা কলেজটি জাতীয়করণের জন্য তালিকাভুক্ত হয়। ঘটনার দিন কলেজ ক্যাম্পাসে পুলিশ ব্যাপক মারধর, গুলি, টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর করে। এ সময় আবুল কালাম আজাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হন, পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এসব অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য এমপির নেতিবাচক ভূমিকাই দায়ী।

জাতীয়করণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে শতাধিক কলেজ পরিদর্শন সম্পন্ন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের পরিদর্শক দল। তারা সরেজমিনে গিয়ে প্রায় প্রতিটি কলেজে সাম্প্রতিক সময়ে প্যাটার্নের চেয়ে অতিরিক্ত শিক্ষক থাকার প্রমাণ পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জাতীয়করণে সম্মতি পাওয়ার আগ মুহূর্তে ও সম্মতি পাওয়ার পর পেছনের তারিখ দিয়ে বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির পর সেই তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয় হয়ে আমাদের কাছে আসে। আমরা ওই প্রতিষ্ঠানের কী অবস্থা তা সরেজমিন তুলে ধরি। এরপর তা সরকারি হবে কি না, তা সরকারের ব্যাপার। আর প্রথমে প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হবে, এরপর শিক্ষকদের চাকরি সরকারি হবে। এখন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই অতিরিক্ত শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে, আমরা তা পরিদর্শন প্রতিবেদনে তুলে ধরছি। এ ব্যাপারেও সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। একবারে যেহেতু অনেক শিক্ষকের চাকরি সরকারি হবে, তাই আত্তীকরণ বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাব এসেছে। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে কাজও শুরু হয়েছে। ’

মাউশি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় শামসুর রহমান ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণের সম্মতি পেয়েছে। এ কলেজে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ২৫। অথচ এমপিওবিহীন শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ৫২। ঢাকার সাভার কলেজে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ৫৯, এমপিওবিহীন শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ৬০। শেরপুরের নালিতাবাড়ীর নাজমুল স্মৃতি কলেজে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ৫০, অতিরিক্ত রয়েছেন ১৫ জন। নারায়ণগঞ্জের মুরাপাড়া কলেজে এমপিওভুক্ত ৫৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও অতিরিক্ত রয়েছেন ২০ জন।

সূত্র জানায়, জাতীয়করণের লক্ষ্যে শিক্ষকদের কাছ থেকে অধ্যক্ষের টাকা তোলার অভিযোগে ইতিমধ্যে রাজশাহীর তানোর উপজেলার এ কে সরকারি ডিগ্রি কলেজ ও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ডিগ্রি কলেজের ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মাউশি অধিদপ্তর। অভিযোগ রয়েছে, এসব কলেজের শিক্ষকদের কাছ থেকে জনপ্রতি এক থেকে তিন লাখ টাকা তুলেছেন অধ্যক্ষ।

নাম প্রকাশ না করে সোনারগাঁ ডিগ্রি কলেজের একজন শিক্ষক বলেন, ‘আমাদের কলেজের জায়গা নিয়ে ঝামেলা রয়েছে। তাই কলেজ জাতীয়করণ নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য আমাদের অধ্যক্ষ যাঁদের চাকরির বয়স ১০ বছরের মধ্যে তাঁদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা করে তুলেছেন। যাঁদের চাকরির বয়স আরো বেশি তাঁদের কাছ থেকে কিছুটা কম নেওয়া হয়েছে। এই টাকা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দিয়ে কাগজপত্র ঠিক করতে হবে বলে আমাদের জানিয়েছেন। ’

সোনারগাঁ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা তোলার অভিযোগ সত্য নয়। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই কলেজ সরকারীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখানে টাকা দিয়ে কী করব? আসলে আমাদের পার্শ্ববর্তী অনেক কলেজ আছে, যারা জাতীয়করণের তালিকায় ঢুকতে না পেরে আমাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে। আর তদন্ত কমিটিও এ ব্যাপারে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। অভিযোগের কোনো সত্যতা তারা পায়নি। ’

রাজধানীর কালাচাঁদপুর সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ইতিমধ্যে জাতীয়করণ হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানে ৫৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত। এর বাইরেও অতিরিক্ত ২৩ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। শুধু ওই ৫৫ জনের চাকরিই সরকারি হয়েছে। বাকিরা এখন পথে পথে ঘুরছেন। অথচ এই ২৩ জনের মধ্যে শিক্ষকদের প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ দেড় লাখ টাকা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে এক লাখ টাকা করে তুলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কালাচাঁদপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ  বলেন, ‘৫৫ জনের বাইরে বাকি ২৩ জন শিক্ষক-কর্মচারী সম্পূর্ণভাবেই অস্থায়ী ছিলেন। তাঁদের নিয়োগও বিধি মোতাবেক ছিল না। তাই তাঁদের চাকরি সরকারীকরণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু এই শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ’

জানা যায়, জাতীয়করণের তালিকায় ঢুকতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু মানদণ্ড থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একটি উপজেলায় সবচেয়ে ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানটিই জাতীয়করণের বিবেচনায় প্রথমে আসতে হবে। সেই সঙ্গে যথেষ্ট পরিমাণ অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের বয়স, আয়তন, সম্পত্তি, ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা, শিক্ষক সংখ্যা, উপকৃত জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও বিবেচনায় আনতে হবে। অন্য সরকারি কলেজ থেকে জাতীয়করণের তালিকায় আসা কলেজের দূরত্ব ও নারী শিক্ষার্থীর যথাযথ অনুপাতের প্রতি লক্ষ রেখে জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে অনেক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই এসব মানদণ্ড বিবেচনায় আনা হয়নি।

জাতীয়করণের প্রক্রিয়ায় থাকা ২৮১টি কলেজের মধ্যে প্রায় অর্ধশত প্রতিষ্ঠান নিয়ে ইতিমধ্যে এলাকায় মানববন্ধন, সমাবেশ, বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ের অনেক বড় কলেজকে বাদ দিয়ে ছোট কলেজকে জাতীয়করণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগও জমা হয়েছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠানের নাম পাল্টে অন্য প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের তালিকায় ঢোকাতে সরাসরি সুপারিশ করেছেন এমপিরা।

জানা যায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব মহিলা কলেজকে জাতীয়করণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ উপজেলা সদর থেকে দুই কিলোমিটার দূরের এ কলেজটি এখনো এমপিওভুক্তও হয়নি। চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় এ কলেজ থেকে চারজন ফরম পূরণ করেছিল, অংশ নিয়েছিল দুজন। তাদের মধ্যে কেউ পাস করতে পারেনি। গত বছরও পরীক্ষার্থী ছিল দুজন, পাস করেছিল একজন। কলেজের শিক্ষকরা অন্য পেশায় নিয়োজিত। কলেজটি চলবে কি না, তা নিয়ে তাঁরা নিজেরাও ছিলেন সন্দিহান। অথচ এই উপজেলা সদরেই রয়েছে নামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজ। দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এই কলেজে পড়ালেখা করছে।

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার তিনানী আদর্শ কলেজ জাতীয়করণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কলেজটি উপজেলা সদর থেকে আট কিলোমিটার দূরে। অথচ উপজেলা সদরের আশপাশে তিনটি কলেজ রয়েছে। ইতিমধ্যে এলাকাবাসী এ নিয়ে সভা-সমাবেশও করেছে। পাবনার সুজানগর উপজেলার ডা. জহুরুল কামাল ডিগ্রি কলেজ বেশ পুরনো। এই কলেজ জাতীয়করণ হবে বলে কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ শিক্ষকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে জাতীয়করণে নাম না ওঠায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী সম্প্রতি পাবনা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধও করেছে।

জামালপুরের স্বনামধন্য কলেজ সরিষাবাড়ী ডিগ্রি কলেজ। অথচ সেটি সরকারি না করে একটি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজকে জাতীয়করণের জন্য সম্মতি দেওয়া হয়েছে। এমনকি কলেজটি যে জায়গায় অবস্থিত তা নিয়েও ঝামেলা রয়েছে। হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে জনাব আলী কলেজকে সরকারি করা হয়েছে। অথচ এ উপজেলার বড় কলেজ শচীন্দ্র কলেজ। সিলেটের জৈন্তাপুরের ইমরান আহমেদ মহিলা কলেজ সরকারি করা হয়েছে। অথচ এই কলেজটি মাত্র দুই বছর আগে অনুমোদন পেয়েছে। বান্দরবানের রুমা সাঙ্গু কলেজ চলতি বছরই অনুমোদন পেয়েছে। এ কলেজটিও সরকারীকরণের তালিকায় রয়েছে। মৌলভীবাজারের বড়লেখা ডিগ্রি কলেজ সবচেয়ে বড় হলেও এ উপজেলায় সরকারি করা হয়েছে নারী শিক্ষা একাডেমিকে। টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় সরকারি করা হচ্ছে মেহেরুন্নেছা মহিলা কলেজকে। অথচ এই উপজেলার বড় কলেজ গোপালপুর কলেজ। টাঙ্গাইলের বাসাইলে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত জোবেদা রাবেয়া মহিলা কলেজ সরকারীকরণের তালিকায় রয়েছে। অথচ এই উপজেলার পুরনো ও নামি কলেজ এমদাদ হামিদা ডিগ্রি কলেজ। বড় কলেজ বাদ দিয়ে ছোট কলেজকে সরকারি করায় টাঙ্গাইলে হরতালও পালিত হয়েছে।

এসব বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গতকাল বলেন, ‘আমরা বেশ কিছু মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে প্রতি উপজেলায় চার থেকে পাঁচটি কলেজের তালিকা করেছি। সেগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। তালিকা থেকে প্রতি উপজেলায় একটি করে কলেজ জাতীয়করণের সম্মতি দেওয়া হয়েছে। ’

অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগসহ নানা অনিয়ম প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যেসব কলেজ জাতীয়করণের বিষয়ে সম্মতি পাওয়া গেছে সেগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে সেই প্রতিবেদন ফের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাব। তারাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ওই কলেজ সরকারীকরণ হবে কি না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সব খবরই আছে। অতএব তিনিই ভালো বুঝবেন কোন কলেজ জাতীয়করণ হবে, কোনটি হবে না। ’

এদিকে জাতীয়করণের তালিকায় থাকা কলেজগুলো সরকারি হলে প্যাটার্নভুক্ত প্রায় ১০ হাজার শিক্ষকের চাকরিও সরকারি হবে। কিন্তু ইতিমধ্যে জাতীয়করণ কলেজের শিক্ষকদের ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত ও জ্যেষ্ঠতা নিয়ে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি জাতীয়করণ কলেজের শিক্ষকদের নন-ক্যাডারে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছে। আর জাতীকরণের লক্ষ্যে অনুমোদিত কলেজের শিক্ষকরা সরকারি কলেজের শিক্ষকদের সমান সুবিধা দাবি করেছেন।

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, এত দিন এমপিওভুক্ত ও বেসরকারি কলেজের নিয়োগপ্রক্রিয়া যথেষ্ট ত্রুটিপূর্ণ ছিল। বেশির ভাগ শিক্ষক টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পেয়েছেন। অদক্ষরাও টাকা দিয়ে সহজেই নিয়োগ পেয়ে গেছেন। চাকরি জাতীয়করণের পর এসব কলেজের শিক্ষক যদি সরাসরি বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হন তাহলে মেধার কোনো মূল্য থাকবে না। কারণ বিসিএস দিয়ে চাকরি পাওয়া শিক্ষকদের প্রায় সবাই মেধাবী। জাতীয়করণ হওয়া কলেজ শিক্ষকদের সরাসরি ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করলে বদলি ও পদোন্নতিতেও জটিলতার সৃষ্টি হবে।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার  বলেন, ‘সরকারের জাতীয়করণ নীতির সঙ্গে আমরাও একমত। তবে জাতীয়করণ হওয়া কলেজের শিক্ষকদের ক্যাডারে অন্তর্ভুক্তি আমরা মেনে নেব না। জাতীয়করণ হওয়া বিপুলসংখ্যক শিক্ষককে আমাদের সঙ্গে মিলিয়ে দিলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে, মারামারি হবে। পদোন্নতি ও বদলিতে ঝামেলার সৃষ্টি হবে। তাই এখন আমরা চাই আত্তীকরণ বিধিমালা ২০০০ সংশোধন করে জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের নন-ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।

Recent Posts

Leave a Comment