হারে বিদায় মুশফিকদের

 In খেলাধুলা

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ধরলে টুর্নামেন্টটা ভালোই গেছে মুশফিকুর রহিমের, ১২ ম্যাচে করেছেন ৩৪১ রান। কিন্তু দলের ছবিটা মূর্ত হলে বরিশাল বুলস অধিনায়কের মুখটা ঢেকে যাবে বিষণ্নতায়। টানা ছয় ম্যাচ হারের পর রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে জিতে মুশফিক জানিয়েছিলেন, শেষ ম্যাচটা জয় দিয়েই শেষ করতে চান। তা হয়নি। টুর্নামেন্টে নিজেদের শেষ ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের কাছে কাল বরিশাল হেরেছে ২৯ রানে।

বাস্তবতা যা-ই হোক, কাগজে-কলমে এই ম্যাচের আগ পর্যন্ত বরিশাল-কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের শেষ চারে ওঠার আশা টিকে ছিল। কিন্তু বরিশালের হারে শুধু তাদের নিজেদেরই নয়, কুমিল্লার মৃদু আশাটাও নিভে গেছে। বরিশাল ও কুমিল্লার পয়েন্ট এখন ৮। বরিশালের আর কোনো ম্যাচ নেই। তবে কুমিল্লা যদি আজ রংপুরের সঙ্গে জেতেও, তবু তাদের সুযোগ নেই।

১৫৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ২ রানেই ফিরে যান বরিশাল ওপেনার রায়াদ এমরিত। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১২৫ রানে অলআউট হয় বরিশাল। ২৩ বলে ইনিংস-সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন ডেভিড ম্যালান। দুর্দান্ত বোলিং করেছেন সোহাগ গাজী। রংপুরের অফ স্পিনার ৪ ওভারে ১২ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। আর রুবেল হোসেন তাঁর শেষ ওভারে পরপর দুই বলে মনির হোসেন ও কামরুল ইসলামকে বোল্ড করে সমাপ্তি টেনেছেন বরিশালের ইনিংসের।

রাজশাহীর সাব্বির রহমানের সঙ্গে প্রথমে কথা-কাটাকাটি, পরে তাঁকে ব্যাট দিয়ে কনুইয়ে গুঁতো দেওয়ার ঘটনায় দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ছিল মোহাম্মদ শেহজাদের। কিন্তু রংপুরের আপিলের পর আফগান উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ম্যাচ শেষে বিসিবি কাল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, শেহজাদের নিষেধাজ্ঞা কমাতে ৩০ নভেম্বর আবেদন করে রংপুর। ওই দিনই তিনি ঢাকা ডায়নামাইটসের সঙ্গে ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়েছেন রংপুর ওপেনার। ‘টুর্নামেন্টের বৃহত্তর স্বার্থে’ই শেহজাদের নিষেধাজ্ঞা কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিপিএলের টেকনিক্যাল কমিটি।

মাঠে ফিরেই স্বমহিমায় শেহজাদ। রংপুরের সর্বোচ্চ রান এসেছে তাঁর ব্যাট থেকেই। এমরিতের বলে এলবিডব্লু হওয়ার আগে ৪০ বলে করেছেন ৪৮ রান। মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে ৬৩ বলে ৭৬ রান যোগ করেছেন দ্বিতীয় উইকেটে। শেষ তিন ওভারে ৩০ রান তোলায় রংপুরের স্কোর ১৫০ পেরিয়েছে।

এই জয়ের পরও রংপুরের শেষ চার নিশ্চিত হয়নি। আজ কুমিল্লাকে হারালেই প্লে-অফ নিশ্চিত হবে তাদের। আর হারলে পড়তে হবে গাণিতিক হিসাবের মারপ্যাঁচে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

রংপুর রাইডার্স: ২০ ওভারে ১৫৪/৫ (শেহজাদ ৪৮, সৌম্য ১৭, মিঠুন ৩৮, আফ্রিদি ৭, জিয়া ২৩*, আনোয়ার ৭, ডসন ৭*; তাইজুল ০/২৭, এমরিত ১/৩২, মনির ০/২৮, কামরুল ২/৩৯, পেরেরা ২/২৬)।

বরিশালবুলস: ১৮.২ ওভারে ১২৫ (এমরিত ১, ম্যালান ৩০, মুশফিক ১, মেন্ডিস ১২, ফজলে ২১, শাহরিয়ার ১৪, পেরেরা ২৪, এনামুল ৭*, তাইজুল ৯, মনির ১, কামরুল ০; সোহাগ ২/১২, আনোয়ার ১/২৫, নাঈম ১/১৪, জিয়া ০/১৬, রুবেল ২/২১, আফ্রিদি ২/২৪, ডসন ২/১১)।

ফল: রংপুর রাইডার্স ২৯ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মোহাম্মদ শেহজাদ।

চিটাগংভাইকিংস: ২০ ওভারে ১১১/৯ (তামিম ০, গেইল ৫, এনামুল ৮, জহুরুল ১৩, মালিক ৬৭*, জাকির ৩, নবী ১২, সাকলাইন ১, ইমরান ০, তাসকিন ২, শুভাশিস ০*; উইলিয়ামস ২/১১, মিরাজ ১/১৫, আফিফ ৫/২১, ফরহাদ ০/৩৬, নাজমুল ১/২৩, প্যাটেল ০/৫)।

রাজশাহী কিংস: ১৩.৫ ওভারে ১১২/৪ (নুরুল ১২, মুমিনুল ২১, সাব্বির ৮, ফ্রাঙ্কলিন ৬৩*, স্যামি ৩, প্যাটেল ৩*; নবী ০/৩০, শোয়েব ০/৯, সাকলাইন ২/৯, ইমরান ২/৩০, তাসকিন ০/৩৪)।

ফল: রাজশাহী কিংস ৬ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: আফিফ হোসেন।

Recent Posts

Leave a Comment