পাঁচ পুলিশকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র শিগগিরই
মিরপুরে চা-দোকানি বাবুল মাতবর হত্যা মামলায় পুলিশের সোর্স দেলোয়ার হোসেনসহ দুজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে পুলিশ। তবে বাবুলকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় অভিযোগ ওঠা পুলিশের পাঁচ সদস্যকে অভিযোগপত্রে রাখা হয়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক রেজাউল ইসলাম বলেন, ডিসেম্বরে বাবুল হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাবুলকে পুড়িয়ে মারার সঙ্গে শাহ আলী থানার পুলিশের সোর্স দেলোয়ার হোসেন ও পারুল বেগমের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাই তাঁদের নাম অভিযোগপত্রে রাখা হয়েছে। গ্রেপ্তার পারুল জামিনে আছেন। আর দেলোয়ার পলাতক। এজাহারভুক্ত পাঁচজন আইয়ুব আলী, পারভীন, শংকর, রবিন ও দুলাল হাওলাদারের বিরুদ্ধে হত্যায় জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগপত্র থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি মিরপুর ১ নম্বরের গুদারাঘাটে পুলিশের উপস্থিতিতে দেলোয়ার হোসেনের হাতে চা-দোকানি বাবুল অগ্নিদগ্ধ হন। তিনি অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় গড়াগড়ি করলেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত শাহ আলী থানার তৎকালীন এসআই মমিনুর রহমান খান, এএসআই দেবেন্দ্র নাথ ও কনস্টেবল জসিমউদ্দিন আগুন নেভাতে যাননি। তাঁরা বাবুলের শরীরের আগুন নিভিয়ে তাঁকে হাসপাতালে নিলে হয়তো বাবুল বেঁচে যেতেন। ওই পুলিশ সদস্যরা সহায়তা চেয়েও তাঁদের সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। ঘটনার সময় শাহ আলী থানায় কর্তব্যরত এসআই নিয়াজউদ্দিন মোল্লা ঘটনা জেনেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি কিংবা সংকট সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেননি। আর থানার প্রধান হিসেবে ওসি এ কে এম শাহীন মণ্ডল পুলিশের ওই দলের খোঁজ রাখেননি কিংবা তদারকও করেননি। এ ঘটনায় গঠিত পুলিশের দুই তদন্ত কমিটিই পুলিশের এই পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতি বা অবহেলা ছিল উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার সুপারিশ করে।
মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, চা-দোকানি বাবুল হত্যায় এ কে এম শাহীন মণ্ডলসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের দায়িত্বে অবহেলা ছিল। এই অপরাধ ফৌজদারি কার্যবিধির অপরাধের আওতায় পড়ে না। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে করা বিভাগীয় মামলায় শাস্তি হয়েছে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, বিভাগীয় মামলায় এ কে এম শাহীন মণ্ডল ও জসিমউদ্দিনকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অন্য তিনজন মমিনুর রহমান খান, নিয়াজউদ্দিন মোল্লা ও এএসআই দেবেন্দ্র নাথকে ‘গুরুদণ্ড’ (বিভিন্ন মেয়াদে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি কর্তন) দেওয়া হয়।
বাবুলের সন্তানেরা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের বাবার হত্যার জন্য পুলিশ সদস্যরা দায়ী। কিন্তু তাঁদের এভাবে ছাড় দেওয়া তাঁরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।