ইউএনও’র কাছে বাবার বিচার চাইলেন দুই মেয়ে

 In শীর্ষ খবর
মায়ের অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বাবা। তারপর থেকে শুরু হয়েছে নির্যাতন। প্রতিবাদ করতে গেলে শুরু হয় নির্যাতন। নিরুপায় হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে বাবার বিচার চাইতে আসলেন দুই মেয়ে।

তারা বলেন, ‘এই নির্যাতন সহ্য আড়াই বছর ধরে অনেক কষ্টে করে পড়ালেখা চালিয়েছি। সেটিও বর্তমানে বন্ধ হয়ে গেছে। বাবা উঠেপড়ে লেগেছেন বিয়ে দেয়ার জন্য।’

কথাগুলো বলছিলেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চাকিপাড়া গ্রামের ইউনুস আলীর দুই মেয়ে। অভিযোগকারী দুজনের মধ্যে বড় মেয়ে রাবিয়া খাতুন (১৭) কলেজে পড়েন। ছোট মেয়ে ছাবিহা খাতুন (১৫) দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

রাবিয়া এসএসসিতে জিপিএ গোল্ডেন-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এবার তিনি মোজাহার হোসেন মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। ছাবিহা খাতুন এবার বাঘা ইসলামি একাডেমি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন।

রোববার দুপুরে ইউএনও’র কাছে দায়েরকৃত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ইউনুস আলী তার প্রথম স্ত্রী ও মেয়েদের নির্যাতন করা ছাড়াও মেয়েদের লেখাপড়া সহ্য করতে পারছেন না। রাতে লেখাপড়ার সময়ে লাইট বন্ধ করে দেন। এছাড়া লেখাপড়ার যাবতীয় সামগ্রী ও পোশাক দেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

ছাবিহার মামা হুসবান আলী বলেন, ‘মারধর ও নির্যাতনের কারণে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমার বোন রওশানারা বেগমকে ভর্তি রেখে থানায় মামলা করেছিলাম। কিন্তু দুই মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে গ্রাম্য সালিশে মীমাংসা করা হয়।’

ইউএনও’ মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘দুই শিক্ষার্থীর কান্না দেখে অনেক খারাপ লেগেছে। আমি তাৎক্ষণিক ছাবিহার স্কুলের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে ইউনুস আলীকে ডেকেছিলাম। কিন্তু তিনি আসেননি। আমি এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাঘা থানার ওসিকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’

Recent Posts

Leave a Comment