‘ওড়না বিতর্ক’

 In খোলা কলাম

সঞ্জয় দে

‘ওড়না বিতর্ক’

প্রথম শ্রেণীর ‘আমার বাংলা বই’- এর ওড়না বিতর্ক আমার কাছে খুব একটা পরিষ্কার নয়। যারা বলছেন ‘ওড়না’ শব্দটি ওই বয়সের শিশুরা ধরতে পারে না এবং এর কোনো অর্থ তাদের সামনে তৈরি করে না তারা সম্ভবত একটি ধারণাগত জায়গা থেকে কথা বলছেন।আমার মেয়ে এবার প্রথম শ্রেণীতে পড়বে- ওড়না চিনতে ওর কোনো সমস্যা হয়নি।

কারণ, প্রতিদিন আশপাশের অসংখ্য নারীর ব্যবহৃত এই পোশাক বা পোশাকের খণ্ডাংশ ওর অচেনা নয়। আমি এই বয়সের ছেলে শিশুর মধ্যেও ওড়না চিনতে পারায় ব্যর্থতা দেখিনি। কাজেই অপরিচিত অর্থে ‘ওড়না’ শব্দটি অথবা এ সংক্রান্ত বাক্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার খুব একটা যুক্তি দেখি না (একটি সংবাদ মাধ্যমে অবশ্য এক শিক্ষা বিশেষজ্ঞ এরই মধ্যে কমিউনিকেটিভ শব্দের স্বার্থে ‘ওড়না’র পরিবর্তে ‘ওজু’ শব্দ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে রেখেছেন )। ওড়নার বিরুদ্ধে যুক্তি দেয়া লোকজন বরং ‘অজ, অলি, ঈশান, ঊর্মি, ঐরাবত, ঐকতান, গজ, ছড়ি, ঠুলি, যব, যাঁতা, শশী, টায়রা’- শব্দগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন, যেগুলোর অনেক কিছু হয়ত তাদেরও অপরিচিত-অজানা।

আরেক দল বলছেন, ওড়নার মাধ্যমে শিশুর পাঠ্যবইয়ে লিঙ্গবৈষম্য সৃষ্টির কথা। অথচ পুরো বইয়ে ছেলে শিশু, মেয়ে শিশুর অনেক ছবি রয়েছে যেখানে ছেলেরা হাফপ্যান্ট পড়া, মেয়েদের গায়ে ফ্রক; বড়দের ক্ষেত্রে নারীর গায়ে শাড়ি আর পুরুষের শার্ট-প্যান্ট-পাঞ্জাবি। এই চিত্রমালা কি শিশুর মনে নারী-পুরুষের আলাদা পোশাক ব্যবহারের ধারণা গড়ে তোলে না?  তাহলে পোশাককেন্দ্রীক এই লৈঙ্গিক ব্যবধান দূর করার কী পরামর্শ রয়েছে আপনার?

আর যদি আপনার আপত্তি থাকে কেবল ‘ওড়না’ নামের বস্ত্রখণ্ডের বিরুদ্ধে সেটি পরিষ্কার করে বলুন। অযথা প্রাথমিকের একটি বইকে অভিযুক্ত না করে সততার সঙ্গে জানিয়ে দিন।

লেখক : বার্তা সম্পাদক, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন।

Recent Posts

Leave a Comment