ক্রেডিট প্রথা বাতিলের দাবিতে রুয়েট শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন অব্যাহত

রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা।
এদিকে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার জন্য নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
রুয়েটের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোশাররাফ হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিশে আন্দোলনকে ‘অযৌক্তিক’ উল্লেখ করে সোমবার থেকে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষে ফেরার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়। অন্যথায় আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে রুয়েট একাডেমিক কমিটিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানানো হয়।
তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস রুটিন অনুযায়ী চলছে বলে জানান রুয়েটের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, দাবি আদায়ে রোববার সকাল থেকে শহীদ মিনার চত্বরে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। এতে ১৩, ১৪ ও ১৫ সিরিজের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এসময় ন্যূনতম ক্রেডিট প্রথা শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে তারা স্লোগান দিতে থাকে।
বিকাল ৫টায় দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শেষে সোমবারও একই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। দাবি না আদায় হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখার হুশিয়ারি দেয় আন্দোলনকারীরা।
জানা গেছে, রুয়েট শিক্ষার্থীদের পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হতে বাধ্যতামূলক ৪০ ক্রেডিটের মধ্যে ন্যূনতম ৩৩ ক্রেডিট অর্জন করতে হয়। ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে এ প্রথা চালু করে রুয়েট প্রশাসন। এর আগে কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা অনুপস্থিতির কারণে ন্যূনতম ক্রেডিট অর্জন করতে ব্যর্থ হলেও পরবর্তী বর্ষে ক্লাস-পরীক্ষা দিতে পারত। সেক্ষেত্রে পরবর্তী পরীক্ষায় উক্ত ক্রেডিট অর্জন করতে হতো।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে রুয়েট ভিসি অধ্যাপক মোহা. রফিকুল আলম বেগ বলেন, ‘ক্লাসে ফেরার জন্য শিক্ষার্থীদের নোটিশ দেয়া হয়েছে। তারপরেও যদি তারা ক্লাসে না আসে, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কমিটি জরুরি সভা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট একই দাবিতে রুয়েট ভিসিকে অবরুদ্ধ করে প্রশাসন ভবনের সামনে আন্দোলন করে রুয়েটের ১৪ সিরিজের শিক্ষার্থীরা। প্রায় দেড় বছর পর হঠাৎ একই দাবিতে শিক্ষার্থীরা ফের আন্দোলনে নেমেছে। আন্দোলনে ছাত্রলীগের উসকানি রয়েছে বলে অভিযোগ একাধিক সিনিয়র শিক্ষকের। তবে বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ।