জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা-২০১৫’ প্রদান

তিনি বলেন, আজকে যাঁরা সম্মাননা পেলেন, আমি মনে করি, তাঁদের দায়িত্বভার এই প্রাপ্তি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্মাননাপ্রাপ্ত শিল্পীরা তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যথাযথভাবে গড়ে তোলবেন। যাতে চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রজন্ম পরস্পরায় অব্যাহত থাকে। সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় শুদ্ধ সংস্কতি চর্চার ক্ষেত্রে চাঁদপুর আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে জেলা প্রশাসক আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ মাসুদ হোসেনের সভাপ্রধানে ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডঃ বদিউজ্জামান কিরণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, যাঁরা সম্মাননা পেয়েছেন, তাঁরা চাঁদপুরের জন্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। শিল্পের প্রতি তাঁদের আত্মার টানের জন্যে যে সংবর্ধনা দেয়া হলো_তা তাঁদের এবং আমাদের জন্যে অনেক আনন্দের ও গৌরবের। এই গুণী মানুষদের দেখে আগামী প্রজন্ম শিখবে এবং উৎসাহিত হবে। তিনি এমন আয়োজনের জন্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান।
সম্মাননা প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে শান্তি ভূষণ রক্ষিত বলেন, সম্মাননা প্রাপ্তি একজন শিল্পীর জন্যে আনন্দের বিষয়। আমিও আনন্দিত হয়েছি। অনেক প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে আমি গান শিখেছিলাম। কোনো পুরস্কার ও সম্মাননা পাওয়ার কথা ভাবি নি। তাই আমার কাজের মূল্যায়ন করার জন্যে শিল্পকলা একাডেমীকে ধন্যবাদ।
মুজিবুর রহমান দুলাল বলেন, নাট্যচর্চা করতে গিয়ে অনেকের সানি্নধ্য, স্নেহ ও ভালোবাসা পেয়েছি। আজকের সম্মাননা তো সেই ভালোবাসারই প্রকাশ ঘটেছে বলে আমি মনে করি।
সুরজিৎ চক্রবর্তী বলেন, এই প্রাপ্তি আমাকে ভবিষ্যতে পথ চলতে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সম্মাননা অন্যদেরও সংস্কৃতি চর্চায় উদ্বুদ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস।
কেশব চন্দ্র সুর বলেন, সম্মাননা প্রাপ্তিতে আমি অভিভূত। যতোদিন বাঁচি ততোদিন সংস্কৃতি চর্চার সাথেই থাকতে চাই।
আলম পলাশ বলেন, আমার ক্ষুদ্র জীবনে এটি অনেক বড় একটি প্রাপ্তি। শিল্পকলা একাডেমীর এ সম্মান আমি হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করলাম। যতোদিন বাঁচি এ দিনের কথা ভুলবো না।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা কালচারাল অফিসার আবু ছালেহ মোঃ আব্দুল্লাহ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মনোহর আলী, প্রেসক্লাব সভাপতি শরীফ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জিএম শাহীন, প্রবীণ লেখক প্রকৌঃ মোঃ দেলোয়ার হোসেন ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট চাঁদপুর-এর সভাপতি তপন সরকার।
অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শহীদ পাটোয়ারী, প্রাবন্ধিক পীযূষ কান্তি বড়ুয়া, বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি পীযূষ কান্তি রায় চৌধুরী, চিত্রশিল্পী অজিত দত্ত প্রমুখ।
শিল্প-সংস্কৃতি ঋদ্ধ সৃজনশীল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নির্দেশনা মোতাবেক ২০১৩ সাল থেকে শিল্পকলা ও সংস্কৃতির বিশেষ শাখায় সার্বিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিবছর ৫জন গুণী শিল্পী এ সম্মাননা প্রদান করে থাকে। এবারও তৃতীয়বারের মতো জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এ সম্মাননা প্রদান করা হলো।