‘আর কারো সন্তান যেনো সন্ত্রাসী না হয়’
ফতুল্লায় ডিবির সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত মোক্তার হোসেন ওরফে কিলার মোক্তার
‘ধনীর (বিত্তবান) ঘরে সন্ত্রাসী-কিলারের জন্ম হয় না। গরিবের ঘরেই শাসন-বারণ না থাকায় ছেলেরা সন্ত্রাসী হয়ে উঠে। আমার ছেলের মতো আর কারো সন্তান যেনো সন্ত্রাসী না হয়।’
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ডিবির সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত মোক্তার হোসেন ওরফে কিলার মোক্তারের মা হালিমা বেগম সাংবাদিকদের কাছে কাঁদতে কাঁদতে এসব কথা বলেন।
হালিমা বেগম বলেন, মোক্তার জীবিত থাকতে একদিনও শান্তিতে ঘুমাতে পারিনি। বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযোগ আসতো। যখন তখন তার বন্ধুরা ঘর থেকে তাকে ডেকে নিয়ে যেতো। বিভিন্ন স্থানে গিয়ে মানুষের সঙ্গে ঝগড়া বিবাদে জড়িয়ে পড়তো। মানুষকে হত্যা করত। এভাবেই মোক্তারের নামের সঙ্গে কিলার নামটি যুক্ত হয়। ১৫ বছর আগে পাশের এলাকা নিশ্চিন্তপুর গ্রামে মোক্তার বিয়ে করেছে। তার স্ত্রীর নাম সুমা আক্তার। তাদের এক মেয়ে এক ছেলে রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমার স্বামী মনির মিস্ত্রি ডিপটিউবেল বসানোর কাজ করত। এখন বয়সের ভারে কোন কাজকর্ম করতে পারেন না। ৪ ছেলের মধ্যে ৩ ছেলে শাকসবজির ব্যবসা করে। তাদের টাকায় সংসার চলে।
এদিকে ডিবির এসআই মাজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় পৃথক দুইটি মামলা করেছেন। এরমধ্যে একটি অস্ত্র আইনে ও অপরটি গ্রেফতার কাজে বাধা, আক্রমণ ও অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ ও খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় নিহত দুইজনসহ অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়।
এছাড়া মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের ৫ মিনিট গুলি বিনিময় হয়। এরমধ্যে দুইজন পুলিশ অফিসারের পিস্তল থেকে ২০ রাউন্ড গুলি বর্ষন করা হয়। নিহত কিলার মোক্তারের বিরুদ্ধে ৬টি ও তার সহযোগী মানিকের বিরুদ্ধে ২টি মামলা দেখানো হয়েছে।
মামলা গ্রহণের সত্যতা নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি কামাল উদ্দিন জানান, দুই জনের ময়নাতদন্ত শেষে তাদের পরিবারের কাছে লাশ বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের মৃতদেহ স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। মোক্তারের অপর সহযোগীদের খুজে বের করার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, বুধবার রাত ৭টায় ফতুল্লার পাগলা নূরবাগ এলাকায় ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কিলার মোক্তার (৪২) ও তার সহযোগী মানিক ওরফে কিলার মানিক (৪০) নিহত হয়েছে।
এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি রিভলবার, ৭ রাউন্ড গুলি, একটি চাপাতি ও ছোড়া উদ্ধার করা হয়। মুক্তার ফতুল্লার শাহীবাজার এলাকার মনির মিস্ত্রির ছেলে এবং মানিক নয়ামাটি মুসলিমপাড়া এলাকার আব্বাস আলীর ছেলে। ফতুল্লা থানা পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী তারা।