‘চোর দিয়ে চোর ধরাধরি’

 In খোলা কলাম


মোহাম্মদ শরীফ

লাল দাগে আমরা তৃতীয় বিশ্ব। দ্বিতীয় নই, প্রথম তো নই কোনোক্রমেই, যা কল্পনা করাও পাপ। এটা যেমন আমদের একটা পরিচয়, তেমনি অপমানজনকও। তবে আমরা আর সেই স্তরে থাকতে চাই না। তাই দ্রুত উন্নয়নের পথ খুঁজছি, সে পথ প্রথম বিশ্বে পৌঁছানোর। যেহেতু প্রথম বিশ্বের পথ খুঁজছি, সে জন্য প্রথম বিশ্বের মুরব্বিদের পরামর্শ দরকার, দরকার সাহায্য-সহযোগিতার। আর আমরা সেই পরামর্শ, সাহায্য-সহযোগিতার জন্য যাচ্ছিও তাদের কাছে। গিয়ে কী পাচ্ছি? উন্নয়নের জন্য বড় ঋণ। সঙ্গে সুদের ভার আর একগাদা পরামর্শ। পরামর্শ নাকি শর্ত, তা নিয়েও বিতর্ক আছে।
এরকম উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার মধ্যে বিশ্বব্যাংকই অগ্রগণ্য। যেমন নামে, তেমন কাজে। বিশ্বব্যাপী চলে তাদের উন্নয়ন আর সেবা কার্যক্রম। উন্নয়নশীল আর অনুন্নত দেশগুলোর সুদের প্রধান মহাজন সে-ই। তার কাছ থেকে ঋণ আনতে পারাটাও একটা ক্রেডিট! কে কত বেশি সুদে ঋণ আনতে পেরেছে তা গুনি আমরা। গুনে বাহ্বাও দেই। পদ্মা সেতু তৈরির জন্য বাংলাদেশও যথারীতি বিশ্বব্যাংকের কাছে গিয়েছিল। শুধু বিশ্বব্যাংক নয়, আরও দাতা সংস্থার কাছে গিয়েছে। বিশ্বব্যাংক ঋণ দিতে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু সমস্যা দেখা দিল। এবার শর্তের আগে অভিযোগ এলো। অভিযোগটা দুর্নীতির। ‘তোমরা তৃতীয় বিশ্ব, দুর্নীতির স্বভাব তোমরা আঁতুড় ঘর থেকেই পেয়ে থাক’ প্রবাদের মতো অভিযোগটা বিশ্বাস করানো হল। তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনকে করতে হল পদত্যাগ। সম্প্রতি কানাডার এক আদালত থেকে রায় এসেছে, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ সঠিক নয়। কিন্তু যা অপমান আর শাস্তি পাওয়ার ছিল, তা ইতিমধ্যে পেয়ে গেছেন আবুল হোসেন ও অন্যরা।
সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক নিয়ে আরও একটি খবর বেরিয়েছে। বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বেশকিছু বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তা। বাংলাদেশে বেশকিছু বিদেশী কর্মকর্তা শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে থাকেন। তাদের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারাও আছেন। কিন্তু তাদের মেনে চলতে হয় বেশকিছু নীতি। বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারা যে শুল্কমুক্ত গাড়ি ব্যবহার করে থাকেন তার মেয়াদ শেষ হলে হয় তা তাদের সম-পদের কাউকে দিয়ে যাবেন, নয়তো তা শুল্ক অধিদফতরে জমা দেবেন। কিন্তু যথাসময়ে ১৬টি গাড়িসহ এর পাসবুক ও অন্যান্য কাগজপত্র জমা দেননি তারা। খবরটা শুনে লালনের একটা গানের কথা মনে পড়ে গেল। ‘চোর দিয়ে চোর ধরাধরি এ কি কারখানা/ আমি তাই জিজ্ঞাসিলে তুমি বলো না/ চোরেরা চুরি করে সাধুরা পালায় ডরে।’
আমাদের কিছুই বলার নেই। না আবুল হোসেন, না বিশ্বব্যাংককে নিয়ে। যা বলার লালন সাঁই অনেক আগেই বলে গেছেন!॥
মোহাম্মদ শরীফ : শিক্ষার্থী, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, কুমিল্লা

Recent Posts

Leave a Comment