দুই মামলায় রাজীব গান্ধী রিমান্ডে

সোমবার বগুড়ার আদালতে হাজির করে তদন্ত কর্মকর্তারা দুই মামলায় ১০ দিন করে ২০ দিন রাজীবের রিমান্ড আবেদন করেন।
শুনানি শেষে চতুর্থ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আট দিন এবং দ্বিতীয় সিনিয়াল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। কোর্ট ইন্সপেক্টর শাহজাহান আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ৩ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে বগুড়ার শেরপুরের জুয়ানপুর কুঠিরভিটা গ্রামের একটি বাড়িতে গ্রেনেড তৈরির সময় বিস্ফোরণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জেএমবির সামরিক শাখা প্রধান রাইসুল ইসলাম খান ওরফে ফারদিন এবং জঙ্গি তরিকুল ইসলাম জুয়েল নিহত হন।
পরদিন সকালে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম শাখার বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা ওই বাড়ি থেকে ২০টি তাজা গ্রেনেড, কমপক্ষে ৩০০ গ্রেনেড তৈরির কাঁচামাল ও সরঞ্জাম এবং ৭.৬৫ ক্যালিবারের ৪টি বিদেশী পিস্তল, ৬টি ম্যাগজিন, ৪০ রাউন্ড গুলি, একটি পাসপোর্ট, একটি মোটরসাইকেল, একটি বাইসাইকেল, ব্যাংকের কয়েকটি চেক বই ও দলিলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র জব্দ করেন।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরপুর থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলম সোমবার সকালে রাজীবকে চতুর্থ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুনের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে বিচারক আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
অন্যদিকে গত বছরের ১৩ জুন গভীর রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার ভাইয়ের পুকুর নামক স্থানে রাজীবের নেতৃত্বে একদল জঙ্গি নাশকতা চালাতে গোপন বৈঠক করছিল। পুলিশ গোপনে খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালালে জঙ্গিরা পালিয়ে যায়। সেখান থেকে জিহাদি বই ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা শিবগঞ্জ থানার এসআই রাজু কামাল রাজীবকে দ্বিতীয় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুজ্জামানের আদালতে হাজির করেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম শাখার সদস্যরা গত ১৩ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল থেকে জেএমবি সদস্য রাজীব গান্ধী ওরফে সুভাষ ওরফে টাইগার আদিল ওরফে জাহিদকে গ্রেফতার করে।
রাজীব আদালতে গুলশান হামলায় জড়িত থাকার ব্যাপারে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার অন্যতম ‘পরিকল্পনাকারী’ বলে দাবি করে আসছে পুলিশ।