বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ১১ কংগ্রেস সদস্যের চিঠি
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের ১১সদস্য।
বাংলাদেশের কারাবন্দি শ্রমিক নেতাদের মুক্তি প্রদান এবং শ্রমিক অধিকার পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ চিঠি দিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার নিজের দাফতরিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানান কংগ্রেসওম্যান জ্যান সাকোস্কি।
এতে বলা হয়, কংগ্রেস সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশে শ্রমিকদের বৈধ তৎপরতাকে অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকারের দাবিতে গড়ে আন্দোলনের ওপর দমনাভিযান চালানোর ঘটনার কংগ্রেস সদস্যরা এ চিঠি পাঠিয়েছেন উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ঘন্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ৩২ সেন্টের (২৫ টাকা) দাবিতে আন্দোলন অংশ নেয়ায় এক হাজার ছয়শ’ গার্মেন্ট শ্রমিককে বরখাস্ত বা চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সম্প্রতি কয়েক ডজন শ্রমিক অধিকার নেতাকে জেলে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে কংগ্রেস সদস্যরা বলেছেন, পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি এবং বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা সুরক্ষিত শ্রমিকদের তৎপরতাকে অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করার ঘটনায় নিন্দা জানাচ্ছি। এ পর্যন্ত কতজন শ্রমিককে আটক করা হয়েছে জরুরি ভিত্তিতে তাদের প্রত্যেকের সংখ্যা জানাতে এবং দায়ের করা সব মামলা পর্যালোচনা করতে আপনার (প্রধানমন্ত্রী) প্রতি আহ্বান জানাই। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে আনা ভিত্তিহীন এবং প্রমাণহীন সব অভিযোগ বাতিল এবং ভুলবশতঃ আটক সব বন্দির আশু মুক্তি নিশ্চিত করতে আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
চিঠিতে সাভারের রানা প্লাজা ধসকে বিশ্বের সবচেয়ে জঘন্য শিল্প দুর্ঘটনা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় এক হাজার ১০০ শ্রমিকের নিহত হওয়ার চার বছর পরেও বাংলাদেশের শ্রমিক অধিকারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে পড়েছে।
চিঠিতে কংগ্রেস সদস্যরা আরো বলেন, আমরা খুবই উদ্বিগ্ন যে শ্রমিক অধিকারকে শ্রদ্ধা জানানোর ব্যাপারে বাংলাদেশ ভুল নির্দেশনা অনুসরণ করছে। আ শ্রমিক অধিকার পরিচালিত হওয়ার কারণে তারা ভীষণ উদ্বিগ্ন। আমরা আপনার (শেখ হাসিনা) ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করছি এবং শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সরকারের নীতি ও কাজকে স্পষ্ট করার আহ্বান জানাচ্ছি।
বাংলাদেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি হয়। এর মধ্যে ওয়াল-মার্ট, ভিএফ কর্পোরেশন, টার্গেট, বার্কশায়ার হাথাওয়ে, কার্টারস, সিয়ার্স হোল্ডিং কর্পোরেশন, পিভিএইচ, গ্যাপ, আইএনসি, জেসি পেনেই কোম্পানি ও কোহল’স উল্লেখযোগ্য।