সারপ্রাইজ
গোলাম সারওয়ার, নয়াদিল্লি থেকে
মনটা দারুণ খারাপ ছিল। শুধু আমারই নয়, অনেকের। এমন তো হওয়ার কথা নয়। কামনা করতেও কষ্ট হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিকটতম বন্ধুপ্রতিম ভারত সফরে এসেছেন। এ নিয়ে নানা তর্ক, নানা আলোচনা, বিবিধ বিশ্লেষণ। বাণিজ্য প্রতিনিধিসহ এমন বিশাল প্রতিনিধি দল নিয়ে কোনো সফর করেছেন কি-না মনে পড়ে না। দিলি্লর ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমাদের সংবর্ধনা
জানাবেন ভারতের ভারি শিল্প ও গণপরিবহনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়- এমন তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর স্পষ্টত বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
কাঁটায় কাঁটায় দুপুর ১২টায় ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্পর্শ করে আমাদের সুবিশাল বোয়িং-৭৭৭-আকাশ প্রদীপ। আমরা কি জানতাম আমাদের জন্য, শুধু আমাদের জন্য নয়, খোদ বঙ্গবন্ধুতনয়ার জন্য মুগ্ধতার আলোয় মেশানো দারুণ এক বিস্ময় অপেক্ষা করছে! ‘বিস্ময় না বলে’ সারপ্রাইজও বলতে পারি। বিমানের জানালা থেকেই দেখলাম, রোদ ঝলমল লাল কার্পেটের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাঞ্জাবি-পায়জামা ও ক্রিম রঙের মোদি কুর্তায় অনাড়ম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী সাগ্রহে অপেক্ষা করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে। তার চারপাশে গণমাধ্যমের কর্মীদের সরব উপস্থিতি। ক্যামেরায় ক্লিক। হাসিমুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এলেন, দুই প্রধানমন্ত্রী করমর্দন করলেন। মোদি একগুচ্ছ গোলাপে সাজানো তরতাজা ফুলের তোড়া তুলে দিলেন শেখ হাসিনার হাতে। ভারতের ইতিহাসের রীতি ভেঙে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানোর এ ঘটনা বিরল। পরে দিলি্লতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উষ্ণ অভ্যর্থনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি অভিভূত।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সমকালের নয়াদিল্লি প্রতিনিধি ও দিল্লি প্রেস ক্লাবের সভাপতি গৌতম লাহিড়ী জানালেন, ২০১০ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে এলে প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রণীত কাউর। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার ভারত সফরের সময়ে এই রীতির ব্যত্যয় ঘটিয়েছিলেন মোদি।
বিশাল প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি ফর্মাল প্রতিনিধি দল দিল্লি এসেছে। এই সরকারি প্রতিনিধি দলে রয়েছেন ৫৬ জন। বাণিজ্য প্রতিনিধি দলে এফবিসিসিআই সভাপতি মাতলুব আহ্মাদসহ সর্বমোট ২৫৭ জন। সব মিলিয়ে দুই ঘণ্টার ফ্লাইট ছিল কলকাকলিতে মুখর। বিজনেস ক্লাস, ইকোনমি ক্লাসের ব্যবধান চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। দেখলাম ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের তরুণ সদস্যরা দারুণ খুশি। নয়াদিল্লির বিমানবন্দরে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে বিমান ঘুরে সকলের সঙ্গে কুশল বিনিময় করলেন। এরপর তিন ঠিকানায় তিন দল চলে যায়। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের নিয়ে গাড়ি চেপে রাষ্ট্রপতি ভবনের উদ্দেশে রওনা হন। আমরা পাঁচ গণমাধ্যম কর্মীসহ সরকারি প্রতিনিধিরা অন্য সদস্যদের সঙ্গে তাজমহল হোটেলের দিকে। ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল তাদের ঠিকানা খুঁজে পেলেন হোটেল গ্র্যান্ডে।