আলো ছড়াল পাবনার সাত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী
পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জনকারী সাত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী হলেন, আনোয়ারুল ইসলাম (জিপিএ ৪.৬৮), আব্দুল মতিন তুষার (৪.৪১), আব্দুর ছবুর (৪.৬৮), নাদিম হোসেন (৪.৬৪), হারুনুর রশিদ ফারুক (৩.৯৬), কাওছার হোসেন (৪.৪৫) এবং শিবলী নোমান মুরাদ (৪.৩০)।
তারা পরীক্ষায় তিনঘণ্টার সঙ্গে অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় বরাদ্দ পেয়েছিলেন। কিন্তু শ্রুতি লেখকের সাহায্য নিয়ে লেখার জন্য এ সময় যথেষ্ট নয় বলে এ সাত পরীক্ষার্থী জানান। পর্যাপ্ত সময় পেলে তারা আরও ভাল করতে পারতেন বলে জানান।
শিক্ষার্থী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শ্রুতি লেখকের সহায়তায় একই প্রশ্নে তাদের পরীক্ষা দিতে হয়। অনেক সময় আমরা সঠিক বলে দিলেও শ্রুতি লেখক লিখতে ভুল করে। এতে নম্বর কমে যায়।
তাদের ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়াশোনার সুযোগ দান, বোর্ড রেজিস্ট্রেশন ও শ্রুতি লেখকের সাহায্যে বিশেষভাবে পরীক্ষা দেয়ার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেছে মানবকল্যাণ ট্রাস্ট নামের একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এসব শিক্ষার্থীকে পাবনার মানব কল্যাণ ট্রাস্টের আশ্রয়ে রেখে বিনাখরচে পড়ালেখা করার সুযোগ করে দেয়া হয়।
এ সাত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে কিছু করতে চান বলে জানান।
পাবনা পৌর সদরে অবস্থিত মানবকল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল হোসেন জানান, অন্ধদের লেখপড়ার জন্য প্রয়োজন ব্রেইল পদ্ধতি। অথচ দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ সুযোগ নেই। পরীক্ষার জন্য প্রয়োজন শ্রুতি লেখকের। দরিদ্র এসব অন্ধদের শ্রুতি লেখকের সম্মানী তো দূরের কথা লেখাপড়া করার ন্যূনতম আর্থিক ব্যয় নির্বাহ করারও সক্ষমতা নেই। তারপরও আমাদের সবার চেষ্টায় থেমে থাকেনি এসব সংগ্রামী দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর শিক্ষা জীবন।
অধ্যাপক আবুল হোসেন আরো জানান, এ সাতজন পরীক্ষর্থীর মত আরো প্রায় ৫২ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পাবনার মানব কল্যান ট্রাস্টের আশ্রয়ে থেকে ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখাপড়া করছেন। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৬ জন ৯ম শ্রেণিতে, ১০ম শ্রেণিতে ৭ জন, একাদশে ৬ জন, ২ জন এমএসহ বিভিন্ন শ্রেণিতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
পাবনার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক অধ্যক্ষ (অব) আলহাজ্ব মাহাতাব উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের এই মনোবল আমাদের উৎসাহিত করে।
তিনি বলেন, মানবকল্যাণ ট্রাস্টকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হলে এটি সারাদেশের দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের উন্নত শিক্ষালয় হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
পাবনার জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালা বলেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অন্ধ শিক্ষার্থীদের ফলাফল আশাব্যঞ্জক। সরকারিভাবে এদের সহায়তা করার চেষ্টা করা হবে।