বাংলাদেশকে সহযোগিতা বন্ধ হবে না : জাইকা প্রেসিডেন্ট

 In লিড নিউজ
বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপান কখনও সহযোগিতা বন্ধ করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার প্রেসিডেন্ট শিনিচি কিতাওকা। গণভবনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষ হলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে এবং জাইকা তাদের সহযোগিতা বন্ধ করবে না। তিনি জানান, গত বছর জুলাইয়ে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় যে ১৭ বিদেশি নিহত হন তাদের মধ্যে সাতজন ছিলেন জাপানের নাগরিক। নিহত ওই সাত জাপানি ঢাকায় জাইকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করছিলেন। ওই হামলার পর বাংলাদেশে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তাতে জাইকার প্রেসিডেন্ট সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তাতে তারা সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি।
এদিকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেছেন জাইকার প্রেসিডেন্ট। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন শিনিচি কিতাওকা। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি বলেন, ‘আপনি যেভাবে বাধা অতিক্রম করেছেন, তাতে বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারাটা আমাদের জন্য আনন্দের।’
সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের সফলতার প্রশংসা করে জাইকার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষা খাতে সহায়তা করব।’ এ সময় হলি আর্টিজানে নিহত জাপানি নাগরিকদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে তার সরকার। এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাসীরা সন্ত্রাসী, তাদের কোনো সীমানা নেই। দেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সব প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। সাক্ষাতকালে মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানবে এবং জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা উপস্থিত ছিলেন। কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার ঢাকায় আসেন জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. শিনিচি কিতাওকা। বৃহস্পতিবার তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন বলে জাইকার ঢাকা অফিস জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও সফরে তিনি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে হলি আর্টিজান হামলার দ্রুত এবং সঠিক বিচার দাবি করেছেন জাইকার প্রেসিডেন্ট। জাইকার ঢাকা অফিস জানায়, নিরাপত্তার কারণেই সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে গেছেন তিনি।
সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জাইকার প্রেসিডেন্ট। এ সময় তিনি গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে আত্মদানকারীদের পরিবার সম্পর্কে কী কী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত ও বিচার সম্পর্কে জানতে চান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘আমাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে- রংপুরে নিহত কুনিও হোশি হত্যা মামলার রায় হয়ে গেছে এবং ডেথ রেফারেন্স হয়ে গেছে। গুলশানের ঘটনায় তদন্তের কাজ শেষ হয়েছে। যে কোনো দিন চার্জশিট দেয়া হবে। আমাদের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। সময়মতোই বিচারকাজ শেষ হবে। আমাদের উত্তরে তারা (প্রেসিডেন্টসহ প্রতিনিধি দল) বলেছেন, দ্রুত এবং সঠিক বিচারই যেন হয়। মন্ত্রী জানান, জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পে বিশেষ নিরাপত্তা গ্রহণের বিষয়টি তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এতে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আমরা জানিয়েছি জাইকাকে ফোকাল পয়েন্ট করে একজন এডিশনাল আইজিপির নেতৃত্বে একটি বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তারপরও জাপানিরা যদি মনে করেন নিরাপত্তা আরও বাড়ানো দরকার, সে ব্যবস্থাও নেয়া হবে। এতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে ৫ সদস্যের জাইকা প্রতিনিধি দল। জাপান-বাংলাদেশের দীর্ঘ দিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।
Recent Posts

Leave a Comment