উপমহাদেশে ক্রিকেট উত্তেজনা

 In খোলা কলাম
মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন
উপমহাদেশে ক্রিকেট উত্তেজনা নতুন কিছু নয়। এবার আইসিসি চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানকে ঘিরে এ উত্তেজনা। এরই মধ্যে ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডকে হারিয়ে পাকিস্তান পৌছে গেছে ্আইসিসি চ্যাম্পিয়ান ট্রফির ফাইনালে। অন্যদিকে বাংলাদেশকে হারিয়ে ভারতও চ্যাম্পিয়ান ট্রফির ফাইনালে উঠেছে। আজ রোববার চ্যাম্পিয়ান ট্রফির ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে উপমহাদেশের দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। তাই উপমহাদেশজুড়েই এখন ক্রিকেট উত্তেজনা। আগে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে উত্তেজনা চোখে পড়ত। কিন্তু এখন ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচেও উত্তেজনা চোখে পড়ছে। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেক শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হয়েছে। গত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ খেলেছে ভারতের সঙ্গে। সেই থেকেই ক্রিকেটের ফোকাস ঘুরে গেছে। এখন ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচেও সমপরিমাণ উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে।
আগে সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না। কিন্তু এখন সোশ্যাল মিডিয়া অনেক শক্তিশালী। ক্রিকেটের উত্তেজনা অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। গত কয়েকদিন ধরেই ভারত-বাংলাদেশ ও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চলছে। মূলত এ প্রচারণাই উত্তেজনার মাত্রা অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। কে জিতবে আইসিসি ট্রফি তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। ফাইনাল খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই উত্তজনার পারদ বাড়তেই থাকবে বলে প্রতীয়মান হয়।
চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে খেলেছে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও ভালো লাগার বিষয়, মর্যাদার বিষয়ও বটে। কারণ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি একটি মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট। এ টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করায় বাংলাদেশের ক্রিকেটের যেমন সন্মান বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি অনেক অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছে টাইগাররা, যা সামনের দিনগুলোয় বাংলাদেশ দল কাজে লাগাতে পারবে।
ভারত বিশ্ব ক্রিকেটে শক্তিশালী একটি দল। তাদের ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং চোখে পড়ার মতো। পক্ষান্তরে বর্তমান পাকিস্তান দলটি তেমন শক্তিশালী নয়, নতুন খেলোড়ারদের নিয়ে গঠিত একটি দল। গ্রুপ পর্যায়ের খেলায় তারা ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে। কিন্তু প্রথম সেমিফাইনালে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ান ইংল্যান্ডকে তারা বড় ব্যবধানে পরাজিত করে ফাইনালে খেলার টিকিট অর্জন করেছে। ফলে তাদের মনোবল অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ফাইনাল খেলায় তারা কাজে লাগাতে পারবে।
খেলায় প্রতিযোগিতা থাকবে, থাকবে উত্তেজনা। এটা খেলোয়াড়দের বাড়তি অনুপ্রেরণা বা উৎসাহ হিসেবে কাজ করে। খেলায় জয়-পরাজয়ও থাকবে। এক দল হারবে আরেক দল জিতবে, কিন্তু থেকে যাবে খেলার সৌন্দর্যটা। মানুষ উপভোগ করবে খেলা। উত্তেজনাও প্রশমিত হয়ে যাবে খেলা শেষ হওয়ার পর।
মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন : প্রাবন্ধিক
belayet-1@yahoo.com
Recent Posts

Leave a Comment