চাঁদপুর-শরিয়তপুর ফেরী ঘাট যানবাহন শূণ্য!

 In দেশের ভেতর, প্রধান খবর, লিড নিউজ

চাঁদপুর প্রতিনিধি
গত দেড়মাস ধরে চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাটে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। শরীয়তপুরের নরসিংহপুর-মনোহর পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কি.মি সড়কের বেহাল দশার কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে এ নৌ পথ দিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে না বললেই চলে। ঘাটের পার্কিং ইয়ার্ডে নেই গাড়ি, নেই কর্মতৎপরতা। স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন বেচা বিক্রি নেই বলে। শরীয়তপুর অংশের সড়ক মেরামত করা না হলে এ সংকট নিরসন সম্ভাবনা নেই বলে জানান ঘাট ম্যানেজার।
হারিনা ফেরিঘাটের তথ্য মতো, এ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন ১২-১৩টি ট্রিপ দেয়া হতো। গত তিন মাসের ব্যবধানে ঘাটে যান চলাচল করছে মাত্র তিনভাগের একভাগ। মার্চ মাসে এ নৌ পথে যানবাহন পারাপার হয়েছে ৯৬১০টি এপ্রিল মাসে ৬২৩০ এবং মে মাসে যান চলেছে মাত্র ১১২১টি। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে খুলনাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচলে নিরাপদ ও স্বল্প খরচের কারণে চালক মালিক এ ফেরি ঘাট ব্যবহার করতো। এখন বিকল্পঘাট ব্যবহার করলেও সময় ও খরচ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ বেশি।
ঘাট ম্যানেজার পারভেজ খান বলেন, শরীয়তপুর-মনোহর সড়কের কাজ না হলেও ফেরি সার্ভিস স্বাভাবিক হচ্ছে না। তাই আমরাও চাই দ্রুত যেন সড়কটি মেরামত করা হয়।
চাঁদপুর হরিণা ফেরিঘাট ঘুরে দেখা যায়, এ ঘাট দিয়ে ফেরি সেবা নিতে ঘাটে আসছে না যানবাহন। আর যানবাহন না থাকায় ফেরি ঘাট খাঁ খাঁ করছে। এ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় তিনশো যানবাহন পারাপার হতো তা নেমে এসেছে মাত্র ২০-৩০টিতে। অল্প সংখ্যক গাড়ি রাতে চললেও দিনে গাড়ি আসেই না। দীর্ঘ তিনঘন্টা অপেক্ষা করেও একটা গাড়ি চালকের সাথে দেখা করার সুযোগ হয় নি। এতেই বুঝা যায়, কী ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে এ ফেরি ঘাট। অথচ এ ঘাটর চাঁদপুর অংশের সকল সড়ক নতুন করে সংস্কার কাজ করে ব্যবহার উপযোগী করা আছে। শুধু মাত্র শরীয়তপুর অংশের ৩৪ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশার কারণে এ ঘাট স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। ফেরি চলাচলের সাথে স্থানীয়রা আর্থিক ভাবে উপকার পেয়ে থাকেন। অবশ্য গত দেড় মাস যানপারাপার না হওয়ারয় ঘাটের আশপাশের যেসব দোকানপাঠ ও খাবার দোকান রয়েছে এসব দোকানেও বেচা বিক্রি নেই। অনেক দোকান বন্ধ করে বসে আছে দোকানী। গত মাস দেড়েক আগে ঘাটে ছিলো কর্ম চাঞ্চল্যতা। দোকানপাটেও বেশ বেচা বিক্রি হতো
স্থানীয় খুচরা বিক্রেত সফিক মিয়া, বাচ্চু ছৈয়াল, শহীদুল্লাহ বলেন, এতো গুরুত্বপূর্ণ একটা ঘাট অথচ যানবাহন চলাচল করছে না। আমরা দোকান পাঠ বন্ধ করে বসে আছি। দ্রুত শরীয়তপুর অংশের রাস্তা মেরামত করলে আবার ফিরে আসতো এখানকার মানুষের মাঝে কর্মচঞ্চল্যতা।
সরকারি রাজস্ব বাড়াতে এবং ঘাটের গুরুত্ব বিবেচনায় শরীয়তপুর সড়কের সংস্কার কাজ দ্রুত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

Recent Posts

Leave a Comment