সন্ত্রাসী হামলায় একই পরিবারের ৩ জনকে কুপিয়ে জখম;

 In ফরিদগঞ্জ উপজেলা

ফরিদগঞ্জ :

ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৮নং পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের রামদাসের বাগ গ্রামে ঐ এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী সফিক বাহিনীর দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় একই পরিবারের ৩ জনকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত পরিবারের পক্ষ থেকে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৮নং পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন এলাকার বিএনপি-জামাতের সমর্থক চিহ্নিত সন্ত্রাসী, কয়েকটি মামলার আসামী মোঃ সফিক হাজী রামদাসের বাগ গ্রামের বাসিন্দা মোঃ দুলাল হোসেন পিতাঃ আঃ জলিলের নিকট জমিজমা বিষয়ে চাঁদা দাবি করে। এ দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় সফিক হাজীর নির্দেশে তার বাহিনীর সদস্য এবং সফিক হাজীর ছেলে মামুন তাঁর ভাতিজা মাসুম ও নয়নের নেতৃত্বে আরো ৮/১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল গত ১ নভেম্বর শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুলাল হোসেনের বসত ঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট করে ঘরের আসবাবপত্র, স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ অর্থ নিয়ে যায়। এগুলো নেয়ায় বাধা দেয়ায় তারা দুলাল হোসেন, তার স্ত্রী খালেদা আক্তার এবং ছেলে রোকন হোসেনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।

এ সময় তাদের ডাক চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের রক্ষা করে। অপরদিকে প্রতিবেশীদের এগিয়ে আসা দেখে এ সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী তাদেরকে রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েনিয়ে যায়। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঐ হাসপাতাল থেকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে রেফার করে। বর্তমানে তারা এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত দুলাল হোসেন জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছি, এমন সময় তারা অতর্কিত হামলা করে আমার ঘরে থাকা সব কিছু নিয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, তারা আমার স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ টাকা লুট করেছে। আমাদের এলাকায় কোনো জমি ভরাট, নতুন বাড়ি ঘর করা হলে এবং জমিজমা ক্রয় বিক্রয়ে সফিক বাহিনীকে চাঁদা দিতে হয়। না দিলে চলে অত্যাচার। সে (সফিক হাজী) অত্র অঞ্চলের একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, সে বিএনপি-জামাতের লোক। এরপরও সে শুধু আমাদের ইউনিয়নে নয়, ঐ অঞ্চলে সে তার বাহিনীর দ্বারা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। কিছুদিন পূর্বে তার ভাতিজা নয়নকে অস্ত্র ও মাদক সহ ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ আটক করে। যা স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ হিসেবে ছাপানো হয়।

এ ঘটনার বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবদুর রকিবের সাথে কথা হলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে জেনে আমি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি, এ ব্যাপারে এখন মামলা প্রক্রিয়াধীন।

Recent Posts

Leave a Comment