আলোকিত সমাজ গড়ার প্রত্যাশী আবু সালেহ
সমাজের উন্নয়নে কাজ করার শখ ছিলো তার বহুদিনে। তিনি স্বপ্ন দেখতেন মানুষকে আলোকিত করার। ভাবতেন কীভাবে পাশে থাকা যায় সাধারণ মানুষের। অনেক চিন্তা ভাবনা করলেন। ভাবতে থাকলেন কী করা যায়। এরই মধ্যে তিনি যুক্ত হয়ে গিয়েছিলেন কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের সাথে। সেখানকার সমাজসেবামূলক কাজ দেখে নিজের আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। তিনি বুঝতে পারলেন তাকে কিছু না কিছু করতে হবে। একসময় ঠিক করলেন একটা সংগঠন করবেন তরুণদের নিয়ে। তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দিবেন সুন্দর সমাজ গড়ার স্বপ্ন। পাশে দাঁড়াবেন মানুষের। কিন্তু সামাজিক সংগঠন করবেন, এত বড় কাজ, এত দায়িত্ব; সব মিলিয়ে সাহসে যেন কুলোয় না। দ্বারস্থ হলেন বন্ধুদের। বললেন কী করতে চান। পাশাপাশি চাইলেন পরামর্শ। বন্ধুরাও ছিলো সমমনা। তারা একযোগে রাজি হয়ে গেলেন। অতঃপর অনেকটা পথ হেঁটে, চড়াই উৎরাই পেরিয়ে গড়ে তোলা হলো একটি সংগঠন। সব ঠিকঠাক কিন্তু নাম নিয়ে বাধলো বিপত্তি। কী নাম দেয়া যায় এ নিয়ে কেউই একমত হতে পারেননি। শেষে ঠিক হলো সংগঠনের নাম হবে ‘একুশে ইয়াং ফোরাম’। নামকরণ দেখে যে কেউ যাতে বুঝতে পারে এই সংগঠনের তরুণরা তাদের ঐহিত্য ও সংস্কৃতিকে লালন করে। ধারণ করে জাতীয় চেতনা ও ঐক্যবোধ।
বলছিলাম চাঁদপুর সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আবু সালেহ’র কথা। তার প্রচেষ্টাতেই আগামী বছর এই সংগঠনটি চার বছরে পা দিবে। ‘একুশে ইয়াং ফোরাম’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো ২০১৪ সালের প্রথম দিকে। আবু সালেহ বর্তমানে সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কথা হয় এ উদ্যোগী, সমাজসচেতন শিক্ষার্থীর সাথে। মুখে চিরাচরিত হাসি দিয়ে বললেন, ‘আমি তখন অনার্স শেষ করেছি। আমি সবসময়ই সমাজের জন্যে কিছু করতে চাইতাম। কিন্তু কী করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। শেষে এই সংগঠনটি করার কথা মাথায় এলো। পড়াশোনার পাশাপাশি গড়ে তুললাম এই সামাজিক সংগঠনটি।’
আবু সালেহ বলেন, আমি চাইতাম আমাদের তরুণরা যাতে সমাজ উন্নয়নমূলক কাজের সাথে যুক্ত থাকে। আমরা শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কাজ করছি। শিক্ষার্জনের জন্যে এলাকার মানুষকে আমরা সচেতন করে থাকি। যথাসময়ে যাতে শিশুকে স্কুলে ভর্তি করায় আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বলে আসি। মেধাবী ও গরিব শিক্ষার্থীদের আর্থিকভাবে সহযোগিতাও করে থাকি। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা নৈতিক শিক্ষায় বলীয়ান হোক। শিক্ষার্থীরা আলোকিত হলেই দেশ আলোকিত হবে। মাদক, ইভটিজিং-এর বিরুদ্ধে আমরা সচেতনতা সৃষ্টি করে থাকি।
একাজ করতে গিয়ে কোনো প্রতিবন্ধক
তার মুখোমুখি হয়েছেন কিনা প্রশ্ন করতেই খানিকের জন্যে তার হাসিটা কিছুটা ম্লান হয়ে যায়। একটু ভাবেন। তারপর বলেন, আসলে সব কাজেই প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। অনেকে ভালো কাজের সাথে থাকতে চায় না। আমাদের প্রথম প্রথম সমস্যা হতো। অনেকে অনেক কথা বলতেই। কিন্তু আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে গেছি। এখন আগের চেয়ে অবস্থা অনেক বদলেছে। মানুষজন অনেক সচেতন হয়েছে। এলাকাবাসী আমাদের আপ্রাণ সহযোগিতা করে। ভালো কাজের জন্যে প্রশংসা করে। বিশেষ করে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মোঃ মিজান সরকার ও কলেজের শিক্ষকরা আমাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন। তাঁর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। এলাকাবাসীর উৎসাহ-ই আমাদের পথচলার প্রেরণা।
২০১৪ সালে একুশে ইয়াং ফোরাম বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছে। এর মধ্যে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, ঈদুল আজহায় রাস্তা মেরামত, ইসলামী সম্মেলনের আয়োজন, সহযোগিতা, ডে-নাইট মিনি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, ইফতার মাহফিলের আয়োজন উল্লেখযোগ্য। ভবিষ্যতের লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে পারি আবু সালেহ-র মুখেই। তিনি বলেন, আমরা এগিয়ে যেতে চাই। সুন্দর সমাজ গঠন হবে, মানুষ শিক্ষা সচেতন হবে এবং সামাজিক উন্নয়নে কাজ করবেথ এমন সমাজ আমাদের কাম্য। আমাদের হাতে অনেকগুলো কাজ আছে। আমরা আগামীতে প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষাবৃত্তি দেব। কুইজ কুইজ, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সচেতনতামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা চাই সমাজের ভালো মনের মানুষরা, অবস্থাসম্পন্নরা আর্থিকভাবে, শারিরীকভাবে আমাদের এই কাজের সঙ্গী হোক।
আবু সালেহ যুক্ত আছেন চাঁদপুর টিআইবির সচেতন নাগরিক কমিটির ইয়েস দলের সাথে। রোটারেক্ট ক্লাব অব সেন্ট্রাল গার্ডেন চাঁদপুরের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একজন বির্তক সংগঠকও। অবসর সময়ে তিনি গান শোনেন। বই পড়তে পছন্দ করেন।
