সীমানা পুননির্ধারণ আইন-বিধির খসড়া প্রস্তুত
বিশেষ প্রতিনিধি
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের প্রতিটি জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় কমপক্ষে একটি সংসদীয় আসন বরাদ্দ রেখে তিন’শ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয়যুক্ত করে নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ আইন এবং বিধিমালার খসড়া তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন কমিশনার কবিতা খানমের সভাপতিত্বে আইন ও বিধিমালা সংক্রান্ত কমিটিতে এ খসড়া উপস্থাপন করা হয়েছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।
সিটি করপোরেশন ও জেলায় নূন্যতম একটি আসন নির্ধারণের বিষয়ে তিনি বলেন, সব কিছুই আলোচনার মধ্যে রয়েছে, কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। তবে জনসংখ্যা, ভোটারসংখ্যা ও প্রশাসনিক অখণ্ডতা বিষয়ে প্রাধান্য দিয়ে সীমানা নির্ধারণের বিষয়ে কমিশন একমত হয়েছে। কমিশন সভায় সব কিছু চূড়ান্ত করা হবে। এর আগে সংলাপে আইন ও বিধি সংস্কার নিয়ে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে।
জানা গেছে, প্রতিটি জেলায় একটি ও প্রতিটি সিটিতে একটি আসন নির্ধারণের বিষয়ে খসড়া আইনের অনুচ্ছেদ-৭ এ বলা হয়েছে, ‘প্রতিটি জেলায় নূন্যপক্ষে একটি আসন নির্ধারণ করিতে হইবে। প্রতিটি সিটি কর্পোরেশনে ন্যূনপক্ষে একটি আসন নির্ধারণ করা যাইবে।’
ইসির কর্মকর্তারা জানান, খসড়া আইন ও বিধি বাস্তবায়ন হলে সংসদীয় আসন বিন্যাসে মাঝারি আকারের রদবদল হতে পারে। প্রথমবারের মতো জনসংখ্যার পাশাপাশি ভোটার সংখ্যা গুরুত্ব দিয়ে আসন বিন্যাস করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশনগুলোতে নূন্যতম একটি আসন দেওয়ার বিধান এবারই প্রথম যুক্ত হচ্ছে।
বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি জেলায় নূন্যতম দুটি সংসদীয় আসন রাখার বিধান রয়েছে। তবে পার্বত্য তিন জেলারর ক্ষেত্রে একটি করে রাখার বিধান রয়েছে। নতুন সীমানা নির্ধারণে ওই তিন জেলায় একটি করে আসন থাকবে। তবে বৈষম্য এড়াতে ‘পার্বত্য’ শব্দটি তুলে দেওয়া হয়েছে বলেও ইসি জানায়।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন এলাকায় নূন্যতম একটি আসন করা হলে বেশ কয়েকটি সংসদীয় আসনের সীমানায় পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে কুমিল্লা ৬ ও ১০ আসনের আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশন। এ সিটিতে ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৭ হাজারের বেশি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী এ সিটিতে একটি সংসদীয় আসন হবে। অপরদিকে সিলেট-১ আসনের অংশবিশেষ এলাকায় নিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশন। এছাড়া আসনের অন্তর্ভুক্ত সিলেট সদর এলাকা সিটি কর্পোরেশনের বাইরে রয়েছে। নতুন বিধান কার্যকর হলে সদর এলাকা অন্য আসনের সঙ্গে যুক্ত হবে। একইভাবে বরিশাল-৫ আসনে সিটি করপোরেশন ও ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ি ওই দশটি ইউপি অন্য আসনে যুক্ত হবে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় দুটি সংসদীয় আসনের আংশিক এলাকা রয়েছে। ওই এলাকাতেও পরিবর্তন আসতে পারে।
ভোটার ও জনসংখ্যা বেশি হলেও ঢাকা ও চট্টগ্রামের আসন সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়ার চিন্তা চলছে। এসব বিষয় নিয়ে রোববার নির্বাচন কমিশনার ও সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত কমিটির প্রধান মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলেও জানা গেছে।
জেলা পর্যায়ে আসন বণ্টন পদ্ধতির ধরণ সম্পর্কে খসড়া বিধিমালার অনুচ্ছেদ ৩ এ বলা হয়েছে, সর্বশেষ আদম শুমারী প্রতিবেদনে জনসংখ্যা এবং সর্বশেষ হালনাগাদকৃত ভোটার সংখ্যা অনুপাতে প্রতিটি জেলায় আসন বণ্টন করা হবে। একাধিক জেলায় অবস্থিত ভূখণ্ড সমন্বয়ে আসন নির্ধারণ করা যাবে না। অনুচ্ছেদ-৪ এ বলা হয়েছে, ‘প্রথম আদমশুমারি প্রতিবেদনে উল্লেখিত দেশের সমগ্র জনসংখ্যা এবং ভোটারসংখ্যা থেকে যেইসব জেলায় একটি আসন নির্ধারণ করা হবে, সেসব জেলার জনসংখ্যা ও ভোটার সংখ্যা এবং সিটি কর্পোরেশনের জন্য নির্ধারিত আসনসমূহের জনসংখ্যা ও ভোটারসংখ্যা বাদ দিয়ে প্রাপ্ত জনসংখ্যা ও ভোটার সংখ্যাকে অবশিষ্ট আসন সংখ্যা দ্বারা ভাগ করে প্রতিটি জেলার জনসংখ্যা কোটা ও ভোটার কোটা নির্ধারণ করা হবে। জনসংখ্যা কোটা ও ভোটার কোটার গড়ের ভিত্তিতে জেলার আসন স্যংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে।’
জনসংখ্যা ও ভোটারসংখ্যার গড় হিসাব করে আসন নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও যোগাযোগ সুবিধা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে অনুচ্ছেদ-৫ এ বলা হয়েছে, ‘সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে উপজেলা অবিভাজিত রাখা এবং ইউনিয়ন/সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভার ওয়ার্ড একাধিক আসনের মধ্যে বিভাজন করা যাবে না। প্রশাসনিক সুবিধা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। নির্বাচন এলাকার আয়তন বিবেচনায় রাখতে হবে।’
খসড়া আইন ও বিধিমালায় দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের খসড়া প্রকাশের পর তার উপর আপত্তি ও অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকবে। ওইসব আপত্তি ও অভিযোগের উপর শুনানিও অনুষ্ঠিত হবে।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, আইন ও বিধি চূড়ান্ত করার পর সংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণের কাজে হাত দেবে কমিশন। এ আইন ও বিধিকে মানদণ্ড ধরে সীমানা নির্ধারণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।